সরকার গণতন্ত্রের পর শিক্ষার সবচেয়ে ক্ষতি করেছে: জাফরুল্লাহ

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ০৬:০২ পিএম

বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের পর শিক্ষার সবচেয়ে ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেছে, এই সরকার মানুষের সবচেয়ে ক্ষতি করেছে মানুষের গণতন্ত্র হরণ করে, তার পরেই শিক্ষার অব্যবস্থাপনা।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ‘শিক্ষায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি এবং করোনাকালীন শিক্ষা বাজেট:  ২০২১-২০২২’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ (ইআরআই)।

জাফরুল্লাহ বলেন, শিক্ষাকে এই সরকারের দুজন মন্ত্রী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। একজন কমিউনিস্ট মন্ত্রী ঢুকেছিলেন আওয়ামী লীগে। এই কমিউনিস্ট মন্ত্রী তার আমলে দিলেন হাজার হাজার জিপিএ-৫। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রী হয়ে আসলেন একজন ডাক্তার সাহেবা, তিনি এমন এক প্রেসক্রিপশন দিলেন... এত ঝামেলা করার দরকার কি স্কুল কলেজ বন্ধ থাকুক। করোনার অজুহাতে স্কুল-কলেজ বন্ধ। জাতিকে শিক্ষায় দুর্বল করে দিতে বিদেশি মদদও থাকতে পারে।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, বিএনপির ক্ষমতায় আসারই ইচ্ছে নাই। ক্ষমতায় আসতে হলে ইচ্ছে, আগ্রহ থাকতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে পরিকল্পনা করতে হবে, যে কী কী জায়গায় পরিবর্তন আনবে। সেগুলো নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন। আজকে বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে আল্লাহর ওহি দিয়ে।

লন্ডনে অবস্থান করা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করে জাফরুল্লাহ বলেন, ওহী লন্ডন থেকেই বেশী আসে। এই স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটাতে হলে, সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন ঘটাতে হবে বিএনপির নিজের ঘরে। আপনার কি খালেদা জিয়ার চেহারা দেখেছেন, মনের মধ্যে একটা ডিপ্রেশনের ভাব। তারা (সরকার) যেভাবে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, বিএনপির লোকেরা হয়তো উপলব্ধি করতে পারে না। তার যদি মুক্তি চায়, আমি বারবার বলেছি তারেক তুমি ২ বছর চুপচাপ বসে থাকো। পারত বিলেতে লেখাপড়ায় যুক্ত হয়ে যাও, সেখানে বহুভাবে লেখাপড়া হয়। আজকে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব না।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাবিদদের প্রত্যাশা ছিল এই অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটের ২০% শিক্ষায় বরাদ্দ দেয়া। কিন্তু গতানুগতিকভাবে এ বছরও শিক্ষায় বরাদ্দ হয়েছে ১১.৯২ শতাংশ। জাতীয় আয়ের (জিডিপি) হিসাবে ২.০৮ শতাংশ অর্থাৎ বড় বাজেটে সীমিত বরাদ্দ। যদিও আমরা বরাবরই শুনে থাকি শিক্ষা খাতে প্রায় ১৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে অর্থাৎ মানব সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এবারও শিক্ষা খাতে বাজেটের বয়ান বেশি দেখানোর জন্য অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটকে সম্পৃক্ত করে শিক্ষা ও প্রযুক্তি মিলিয়ে ৯৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বাজেটের ১৫.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। মূলত এককভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ মোট জাতীয় বাজেটের ১১.৯২ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, বলা হচ্ছে চলতি অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা খাতে। বাজেটে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয়ের কিছু অংশও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত। অপরদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে শিক্ষা, বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যয় ৯৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা অর্থাৎ ১৫.৭ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। একেই বলা হয় শুভংকরের ফাঁকি।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না বলেন, ১৪ মাস ধরে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এইভাবে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে তা পৃথিবীর মানুষ কখনো দেখেনি। এমন একটা পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী বলছেন ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যাপারে আমাদের চাপ নেই।’ এরা কিসে যে চাপ বোধ করে তা বোঝা যায় না। মনে হয় যদি ঘাড়ের ওপর উঠে বসতে পারেন তখন বলবে চাপ বোধ করছি। মানুষিক চাপ, নৈতিক চাপ, এইগুলো তাদের কাছে নাই।

ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বন্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৭-৮ বছর ধরে চলতে দিয়েছে, লাইসেন্স হয়েছে, ব্যাটারি আমদানি করার অনুমতি দিয়েছে, বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছে, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করল। শুধুমাত্র নিজেরা কিনে যারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করল, তাদের হঠাৎ বলে দিল এই সব অবৈধ। ওরা (সরকার) তো এই সব বলবেই। ওরা নিজেরাই অবৈধ। কোনো ভোটই করে নাই, গায়ের জোড়ে ক্ষমতা নিয়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও ইআরআইর সদস্যসচিব মোশাররাফ আহমেদ ঠাকুর ও গণস্বাস্থ্যের মিডিয়া উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর যৌথ সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী, ড. আবদুল লতিফ মাছুম, ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম,জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাংবাদিক নেতা এম আবদুল্লাহ, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত