পাবনার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণ। গত এক সপ্তাহে জেলার বেড়া, সুজানগর, ভাঙ্গুড়া, ঈশ্বরদী ও সদর উপজেলায় করোনা উপসর্গে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এসব উপজেলার দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অবস্থার অবনতি হলে জেলা সদরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আসছেন করোনা রোগীরা।
তবে, জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে শয্যা খালি না থাকায় গত দুই দিনে ভর্তি হতে পারেননি নতুন কোনো রোগী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাসপাতালের কভিড ১৯ ইউনিটে শয্যা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল, ঈশ্বরদী ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, সুজানগর, সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ওয়ার্ডে অন্তত ১০ জন রোগী মারা গেছেন। হাসপাতালের বাইরেও করোনা উপসর্গে মৃত্যুর ঘটনা বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে।
শনিবার রাতে শহরের ইমব্যাঙ্কমেন্ট রোডের বাসিন্দা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব বিভাগের কর্মচারী আরজু আরা বেগম ইলা (৪৮) পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তার পরিবারের সকল সদস্য। মুঠোফোনে মেসেজ পেয়ে সংকটাপন্ন পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে নেয়া ও মৃত আরজু আরা বেগমে দাফনের ব্যবস্থা করেন পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সালেহ মোহাম্মদ আলী বলেন, গত বছর পাবনায় করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ সময়েও জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ১৪ জনের বেশি হয়নি। মৃত্যু হারও ছিল অনেক কম। কিন্তু বর্তমানে, হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ৩৬ শয্যার সব কটি পূর্ণ
‘শয্যা খালি না থাকায় রোগীরা ফিরে গেছেন। জরুরি ভিত্তিতে শয্যা বাড়ানোর কাজ চলছে। তবে, সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী হার নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে, কোনভাবেই পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব হবে না।’
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আইয়ুব হোসেন জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে বর্ধিত শয্যায়ও রোগী ভর্তি নেয়া হবে।
এদিকে, রবিবার দুপরে শহরের আব্দুল হামিদ রোডে পাবনায় করোনা পরীক্ষায় পিসিআর ল্যাব চালু ও জেনারেল হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মানববন্ধন করেছে জেলার সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, পাবনায় ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। গত ৭দিনেই আক্রান্ত হয়েছে ৪৪১ জন।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায়। যেখানে গত এক সপ্তাহে গড় সংক্রমণের হার প্রায় ৪৫ শতাংশ। সচেতন না হলে এই মহামারির ব্যাপকতা রোধে লকডাউন বা শার্টডাউন -কোনো কিছুতেই কাজ হবে না।
পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কভিড ইউনিটে শয্যা সংখ্যা ১০০তে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে। পিসিআর ল্যাবের মেশিন ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ এসে পৌঁছেছে। স্থাপনের কাজ শেষে আশা করছি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষা শুরু করা যাবে। বড় সিলিন্ডারের মাধ্যমে উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা করতে ঠিকাদারকে তাগাদা দেয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যেই এ কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
