দুবাইয়ের নিখোঁজ প্রিন্সেস শামসাকে ঘিরে রহস্য

আপডেট : ২৮ জুন ২০২১, ১২:২২ এএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের কন্যা শামসা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদকে গত ২১ বছরে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ২০০০ সালে ক্যামব্রিজের রাস্তা থেকে অপহৃত হন এই রাজকুমারী। তার বোন প্রিন্সেস লতিফার ঘটনা বিশ্ববাসী জানলেও অনেকটাই আড়ালেই থেকে গেছে শামসার নিখোঁজ রহস্য।

২০০০ সালের মাঝামাঝিতে বাবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান প্রিন্সেস শামসা। পালিয়ে যাওয়ার দুই মাস পর লন্ডনের ক্যামব্রিজশায়ারে ধরে পড়েন তিনি। এরপর থেকেই আর দেখা মেলেনি। যখন কিশোরী ছিলেন কীভাবে পরিবার থেকে পালানো যায় সে বিষয়ে এক চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি। এর কয়েক মাস পরই ১৮ বছর বয়সে রাজ পরিবার ছেড়ে বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। ২০০০ সালের আগস্টে একটি কালো রঙের রেঞ্জ রোভার গাড়ি চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন শামসা।

ক্যামব্রিজের এক রাস্তা থেকে অপহরণের আগে দুবাইতে ফিরিয়ে আনার জন্য রাজকন্যার খোঁজ চলে। পালানোর আগে এক চিঠিতে তার ওপর নির্যাতনের বেশকিছু ঘটনা তুলে ধরেন। নিখোঁজের পর দীর্ঘ সময় ধরে চলে তদন্ত। তদন্তের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ডেভিড বেক এ সানডে মিররকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্ত থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শামসার সঙ্গে কী হয়েছিল তার তদন্তে বাধাও দেওয়া হয়েছিল।’ এ পুলিশ কর্মকর্তার বিশ্বাস, নিখোঁজের সঙ্গে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ জড়িত আছেন। আর এ কারণেই তাকে আরব আমিরাতে যেতে বাধা দেওয়া হয়। সে সময় দুবাইয়ের রাজপরিবারে কাজ করতেন মিসেস জহাইয়েনেন। যিনি শামসাকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন। সংবাদমাধ্যম নিউজ ডট এইউকে জানান, নিখোঁজের আগে নির্যাতনের শিকার, কারাগারে বন্দি এমনকি জোর করে মাদক নিতে বাধ্য করানো হতো শামসাকে। দিনের পর দিন নির্যাতনের শিকার প্রিন্সেস তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও জানান জহাইয়েনেন। সংবাদমাধ্যমটিকে তিনি বলেন, ‘রাজকন্যাকে তার মায়ের কক্ষে আটকে রাখা হতো। প্রিন্সেস শামসাকে দুবার দেখার সুযোগ হয়। ২০০১ সালের প্রথম দেখায় তাকে খুবই অস্থির দেখাচ্ছিল। দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালে তার এক বোনের বিয়েতে দেখা যায়। বোনের বিয়েতে শামসাকে দেখে একদমই চেনা যাচ্ছিল না। তার স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়ে লতিফা আমাকে জানান, খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত