জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, করোনায় জীবিকা হারিয়ে নতুন বেকার আড়াই ২ কোটি এবং আগের কর্মহীন বেকারদের জন্য জীবন রক্ষা ও জীবিকার কোন ব্যবস্থা প্রস্তাবিত বাজেটে চোখে পড়েনি।
লকডাউন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে দুর্ভিক্ষের অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। সেখানেও জীবন বিপন্ন হবে। আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে দারিদ্র ও নব্য দরিদ্রদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সমাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতা অনেক বৃদ্ধি করতে হবে। অর্থের প্রয়োজন বাড়বে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, জনগণ প্রত্যাশা ছিল এ বাজেট হবে প্রাথমিকভাবে জীবন ও জীবিকা রক্ষার বাজেট। ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। গত অর্থ বছরের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বা ৬.২৮ শতাংশ। প্রশ্ন থেকে যায়, এই বৃদ্ধি কি জীবন-জীবিকায় প্রাধান্যের বাজেটের জন্য যথেষ্ট?
তিনি বলেন, জীবন রক্ষার জন্যটিকা, ঔষধ, ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল, টেস্টিং ল্যাবরেটরি, টেকনলজিস্ট, পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদির যথেষ্ট পরিমাণ প্রয়োজন। নতুনভাবে এ সব সুযোগ বাড়াতে হবে। সে জন্য অতিরিক্ত অর্থের দরকার হবে।
বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, চলতি বছরের (২০২০-২১) বাজেট প্রায় গতানুগতিক। আগামী বছরের প্রস্তাবিত বাজেট (২০২১-২২)-এর প্রায় সমান বলা যায়। সে বাজেট দিয়ে ওপরের সমস্যাগুলো যথাযথভাবে সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ বছরের বাজেট বৃদ্ধি করা হয়েছে ১৪ শতাংশ। শুধুমাত্র কভিড-১৯ টিকার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি রুপি। কেবল স্বাস্থ্য খাতে বাড়ানো হয়েছে ১৩৭ শতাংশ বা ১,২৩,৩৯৪ কোটি টাকা। উন্নত দেশগুলোতে আরও বেশি। সেভাবে দেখলে আমাদের বাজেটে জীবন ও জীবিকার প্রধান্য যথেষ্ট আছে বলা যায় না।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থ বছরে ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বা জিডিপির হিসাবে ৬.১৭ শতাংশ; সম্ভাব্য রাজস্ব আহরণের ১ লাখ কোটির বেশি ঘাটতি এর সঙ্গে যুক্ত হবে। সে ক্ষেত্রে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার অধিক বাজেটে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ বিগত বছরের প্রকৃত রাজস্ব আয়ের ওপর ভিত্তি করে ৫৫.১০ শতাংশ ঘাটতি থাকবে বলে অনুমান করা যায়। ঘাটতিকে সব সময় নেতিবাচকভাবে দেখার কিছু নেই, যদি ঘাটতি পুরণের উৎস নির্ভরশীল হয়।
এ প্রসঙ্গে জিএম কাদেরের দাবি, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি পূরণের উৎস দুর্বল ও অনিশ্চিত। ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে প্রাপ্তি ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে; বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি অনিশ্চিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। দেশীয় ব্যাংকগুলোর বেশির ভাগ রুগ্ন। এগুলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়া কতটা বাস্তবসম্মত? তাছাড়া এতে ব্যাংকের তারল্য সংকট বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ে পুঁজি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সংকট বাড়বে। ফলস্বরূপ ব্যবসা সার্বিকভাবে সংকুচিত হবে, কর্মসংস্থান কমবে। সার্বিকভাবে বলা যায়, বাজেটের ঘাটতি পূরণ প্রায় অনিশ্চিত। ফলশ্রুতিতে প্রস্তাবিত বাজেটে খাত ভিত্তিক বরাদ্দের সংকুলান যথাযথ নাও হতে পারে।
