নাটোর সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিটে নতুন রোগীদের জন্য আর জায়গা নেই। সেখানে ৭০ শয্যার বিপরীতে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৯১ রোগী। এদের ২১ জন শয্যা না পেয়ে করোনা ইউনিটের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের তিন চিকিৎসকসহ মোট ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি সভা ডেকেছে জেলা প্রশাসন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, নাটোর সদর হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে একজন এবং উপসর্গে একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া রাজশাহী হাসপাতালে আরো দুজন মারা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নাটোরে ১৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ৭৮ করোনা রোগী পাওয়া গেছে। সংক্রমণের হার ৪২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার সিংড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেনসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এসব হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে সদর হাসপাতালে করোনা রোগীরা ভিড় করছে। এতে করে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ।
ভর্তি রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই গ্রামের জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নাটোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের চিকিৎসক ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আনিছুজ্জামান পিয়াস বলেন, কোভিড রোগীদের এত চাপ, চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তা ছাড়া চিকিৎসা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগী এবং তাদের স্বজনদের ভিড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এতে করে সংক্রমণ আরো ছড়াচ্ছে।
জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, নাটোর সদর হাসপাতালে করোনা রোগীদের চাপ কমিয়ে আনার জন্য সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আমজাদ খান চৌধুরী মেমোরিয়াল বেসরকারি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি। শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি সভা আহ্বান করেছি। সভায় পরিস্থিতি কীভাবে উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
