‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃত মায়ের জেগে ওঠার অপেক্ষায় শিশুটি

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ০৬:০৫ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্সদের অবহেলায় সুমী বেগম (২৪) নামের এক সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মা মারা যাওয়ায় কারণে ১০ মাসের শিশুটির হাহাকারে ভারী হয়ে উঠে গোটা হাসপাতাল চত্বর। মৃত মায়ের জেগে ওঠার অপেক্ষায় তাকে জড়িয়ে ধরে থাকতে দেখা যায় শিশুটিকে।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) বিকাল ৫টায় এ ঘটনাটি ঘটে। মৃত সুমী উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মন্নান মিয়ার মেয়ে।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, বুধবার দুপুরে এক সন্তানের জননী সুমী বেগমের পেটব্যথা দেখা দিলে তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। পরে ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকটি পরীক্ষা করতে দেন। সকালে পরীক্ষা শেষ করে হাসপাতালে সাধারণ নারী ওয়ার্ডে নিয়ে আসলে তার অবস্থা আশংকাজনক হয়। তা দেখে সুমির মা রাহেনা বেগম ও বাবা মন্নান মিয়া ডিউটিরত চিকিৎসক ও নার্সদের কাছে বারবার উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার নিয়ে যেতে তাগাদা দেন। কিন্তু তাদের কথার কর্ণপাত করেননি তারা। দুপুর ১২টায় সুমির অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে সিনিয়র নার্স অনিতা সিনহা ও মিডওয়াইফ রত্না মন্ডল তাকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর থেকেই সুমির আর কোনো নড়াচড়া দেখতে না পেয়ে বার বার নার্সরা বিরক্তির স্বরে রোগী ঘুমিয়ে আছেন, ডিস্টার্ব করবেন না বলে জানান।

তাদের অভিযোগ, বিকালেও রোগীর নড়াচড়া না পেয়ে নার্সকে জানালে নার্সরা ডা: মুন্না সিনহাকে নিয়ে আসলে তিনি সুমিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত সুমির মা রাহেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য হাসপাতালের নার্স এবং ডিউটি ডাক্তারই দায়ী। আমরা তাদের বিচার চাই।’

তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুন্না সিনহা ও মিডওয়াইফ রত্না মন্ডল জানান, ‘মৃত রোগীর স্বজনরা আমাদের কাছে রোগীকে রেফারের জন্য বলেনি। আমাদের চিকিৎসার মধ্যে কোন ত্রুটি নেই। প্রয়োজনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজেদুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় কেউ দায়ী থাকলে শুক্রবার তদন্তক্রমে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত