‘ফেভারিট’ ইংল্যান্ড ‘জানবাজি’ ইউক্রেনের

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২১, ১২:৩৫ এএম

২০১৮ বিশ্বকাপেও দেখা গেছে এই চিত্র। ‘ইটস কামিং হোম’ বিশ্বকাপকে উদ্দেশ্য করে ইংলিশ সমর্থকদের সে কী উচ্ছ্বাস। তাদের বিশ্বকাপ ছিল হ্যারি কেইনদের হাত ধরে সোনালি ট্রফিটা তাদের ঘরে ফিরছে ১৯৬৬ সালের পর। কখনো ইউরো না জেতা ইংলিশরা সেবার হতাশ হয়েছিল। কিন্তু এই ইউরো তাদের আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। প্রি কোয়ার্টারে পুরনো শত্রু জার্মানিকে হারানোর পর থেকেই ইংলিশরা আবার ‘ইটস কামিং হোম’ স্বপ্নে বিভোর। তাদের বিশ্বাস, এবার প্রথম ইউরো জিতবে ইংল্যান্ড। সেই স্বপ্নযাত্রায় কোয়ার্টার ফাইনালে আজ রোমে ইংলিশদের সামনে ইউক্রেন। রাশিয়ার সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধে লিপ্ত দেশটি আবার এই প্রথম ইউরোর কোয়ার্টারে খেলছে। স্মরণীয় আসরকে তারা এখানেই থামাতে চায় না। আরও দূর যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ইংল্যান্ডকে সেরা ধাক্কাটা দিতে চায় আন্দ্রে শেভচেনকোর দল। প্রয়োজনে মাঠে মরতেও প্রস্তুত তারা। জার্মানির বিপক্ষে একটি জয় ইংল্যান্ডের চারপাশের আবহই বদলে দিয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে জয়-পরাজয়ের যেকোনো আলোচনা সব গিয়ে মিলছে ‘ইংল্যান্ড ফেভারিট’ এই পথে। এ ছাড়া উপায়ও নেই, র‌্যাংকিংয়ে ২৪ নম্বরে আছে ইউক্রেন, এদিকে ইংল্যান্ড ৪-এ। এবারের গ্রুপ পর্বে শক্তিধর দলগুলোর একটি ছিল থ্রি লায়নসরা। গ্রুপে অপরাজিত তারা। নকআউটে জার্মানির বিপক্ষে প্রথমবার জিতে ষষ্ঠ ইউরো কোয়ার্টার নিশ্চিত করেছে তারা। এ ছাড়া এই চার ম্যাচের একটিতেও ইংল্যান্ডের জালে গোল দিতে পারেনি কেউ। আগের সাতবারের দেখায় ইংল্যান্ডের জয় চারবার, একটি ম্যাচ জিতেছে ইউক্রেন আর ড্র একটি। বিপরীতে ইউক্রেনিয়ানরা কোনোমতে নকআউটে পৌঁছে সেরা চার তৃতীয় দলের সবশেষটি হয়ে। গত চার ম্যাচে তারা গোল হজম করেছে ছয়টি।

কিন্তু আন্ডারডগ ইউক্রেনই আসরের অন্যতম অঘটন ঘটিয়েছে। ‘ই’ গ্রুপ থেকে স্পেনকে পেছনে ফেলে শীর্ষ হওয়া সুইডেনকে বিদায় করেছে তারা। ইউক্রেন ডিফেন্ডার মাইকোলা ম্যাটভিয়েনকো বলেন, ‘ইংল্যান্ড যে ফেভারিট এটা এক রকম পরিষ্কার। আপনারা সবাই দেখেছেন। ওদের ফুটবলাররা যে লেভেলের খেলা দিয়েছে এটাই সব বলে দেয়। আমাদের জন্য এটা কঠিন কিন্তু সবাই এটাও দেখেছেন যে, এই পর্যায়ে যেকোনো কিছুই সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করছি, আমাদের অসম্ভবকে সম্ভব করার সামর্থ্য আছে।’ 

আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম করা গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড যেকোনো মূল্যে এই শিরোপা জিততে চান। গর্ডন বাঙ্কসের পর দ্বিতীয় ইংলিশ গোলরক্ষক হিসেবে কোনো বড় আসরে চার ম্যাচে পোস্ট অক্ষত রেখেছেন। ইউক্রেনের সঙ্গে গোল না খেলে ছাড়িয়ে যাবেন বাঙ্কসকে। তবে এসব নয় পিকফোর্ডকে টানছে ওই ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ মেডেলটি। জার্মানির বিপক্ষে পিকফোর্ডের দুটি অবিশ্বাস্য সেভ ইংল্যান্ডকে জয় পেতে সাহায্য করে। জার্মান ম্যাচে জয়ের অপর নায়ক রাহিম স্টার্লিংও নিজের জন্য শিরোপা জিততে চান। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বর্ণবাদ থেকে শুরু করে নানা কারণে সমালোচনার শিকার স্টার্লিং সব থামাতে চান এই শিরোপা জিতে।

ইংলিশ কোচ গ্যারেথ সাউথগেট মানছেন এই লড়াইয়ে চাপ তাদের ওপর, ‘এটা আমাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। এতদিন আমরা ওয়েম্বলিতে খেলেছি। এই ম্যাচটি অন্য মাঠে খেলতে হবে যেখানে খুব একটা সমর্থন থাকবে না। তাছাড়া ইউক্রেন দলটাও আমাদের কাছে অচেনা। আর সবাই তো ভেবেই নিচ্ছে যে ইংল্যান্ড জিতবে। তাই আমাদের জন্য চাপ কিন্তু বিশাল।’ এসি মিলানের হয়ে ক্যারিয়ারে অনেকবারই রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে খেলেছেন শেভচেনকো। বর্তমানে কোচ ইউক্রেনের সাবেক লিজেন্ডের জন্য মাঠ অচেনা নয়। এ মাঠে ইংল্যান্ডকে থামাতে শিষ্যদের জীবন বাজি রাখার কথা বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডকে গোল দেওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু আমরা ভয় পাচ্ছি না। নকআউটে যেকোনো কিছু হতে পারে। এটাই আমাদের শক্তি জোগাচ্ছে। আমি জানি ছেলেরা সামর্থ্যরে শেষটুকু দিয়ে খেলবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত