‘টাকা নিয়ে’ ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ০৯:১৪ পিএম

সাভার পৌর এলাকার একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টারে এক নারীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ  ঘটনায় পুলিশ রুবেল ও ইকবাল মিয়া নামে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতভর আটকে রাখলেও পরদিন সকালে ‘মোটা অঙ্কের অর্থের’ বিনিময়ে রুবেলকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয় যায়। সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নুরুল কাদির সৈকতের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ধর্ষণের শিকার ওই নারী।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী নারীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ওই নারীকে কৌশলে ওই ফিজিওথেরাপি সেন্টারে ডেকে নিয়ে যায় এক যুবক। সেখানে আগে থেকেই অজ্ঞাত পরিচয় আরো সাতজন উপস্থিত ছিলো। তাদের দেখে ভুক্তভোগী নারীর কাছে বিষয়টি ভালো মনে না হওয়ায় পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় উপস্থিত সবাই ওই নারীর মুখ চেপে ধরে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এরপর সাতজনের পাহারায় এক যুবক ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর স্বামী কাউছার উদ্দিন বলেন, পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুল কাদির সৈকত শনিবার রাতে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মালিকের ছেলে রুবেল ও ম্যানেজার ইকবাল মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে রাতভর থানায় আটকে রেখে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে রুবেলকে রবিবার সকালে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুল কাদির সৈকত বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্য এবং বানোয়াট। ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে রুবেল যুক্ত ছিল কিনা তা জানতেই তাকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এবং ভুক্তভোগী নারীরও কোনো অভিযোগ না থাকায় রুবেলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ডগরমোড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, রফিক (কোম্পানি) ও তার ছেলে রুবেল দীর্ঘদিন ধরে তার ছয়তলা বাড়িতেও রোগী ভাড়া দেওয়ার নামে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এমন অভিযোগে পুলিশ ওই বাড়িতে কয়েকবার অভিযানও চালিয়েছে। আর ধর্ষণের অভিযোগে আটক আসামি রুবেলকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাটি এলাকায় মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে।

টাকার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে দুজনের মধ্যে একজনকে নির্দোষ মনে হয়েছে বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত