ঢাকার আজিমপুরে নতুন কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রশিল্পী গোলাম মুস্তাফা।
শুক্রবার বাদ আছর ইস্কাটনের অফিসার্স কোয়ার্টার জামে মসজিদে জানাজার পর তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনের পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার নাসির মাহমুদ এবং টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সভাপতি মাহবুবসহ অনেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার ইস্কাটনের বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
গোলাম মুস্তাফার ছাত্র ও একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র ক্যামেরাম্যান শামসুল হুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, “অনেক দিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।”
তার মৃত্যুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, থিয়েটার বিষয়ক পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’সহ বিভিন্ন সংগঠন শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এক শোক বার্তায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
গোলাম মুস্তাফা ১৯৪১ সালের ৩০ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া ভাগের পর দাদার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলে যান। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের বার একাডেমি স্কুল, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। খ্যাতিমান আলোকচিত্রশিল্পী মনজুর আলম বেগের সান্নিধ্যে এসে তার শিল্পসত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও তা প্রত্যাখ্যান করে ইউএসআইএসে খণ্ডকালীন চাকরি নেন গোলাম মুস্তাফা। কর্মজীবনে তিনি আমেরিকান দূতাবাস ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। তিনি ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সহসভাপতি এবং দুই বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৪ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রে যোগদান করেন গোলাম মুস্তাফা এবং ১৯৯৮ সালে বিটিভি থেকে পরিচালক (ফটোগ্রাফি) পদে অবসর নেন। একমাত্র বাংলাদেশি ক্যামেরাম্যান হিসেবে ডিআইটি ভবনে অবস্থিত তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান টেলিভিশনের যোগদান করেছিলেন তিনি।
বরেণ্য এই আলোকচিত্রী বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (বিপিএস)-র সম্মানিত স্থায়ী পরিষদ প্রধান। ‘ফটোগ্রাফি’ পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। আলোকচিত্রে অবদানের জন্য একুশে পদক (২০১৮) লাভ করেন গোলাম মুস্তাফা। ২০১৬ সালে শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
