পটুয়াখালীতে প্রতিদিন বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখা। মৃত্যুর তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠেও তৎপর রয়েছে জেলা সিভিল ও পুলিশ প্রশাসন। রয়েছে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবির কঠোর টহলসহ নজরদারি। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে প্রতিদিন পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদায় করা হচ্ছে জরিমানা।
তবে এতকিছুর পরেও মানুষের মাঝে নেই এর কোনো প্রভাব। চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক ছাড়াই অবাধে চলাফেরা করছে মানুষ। প্রশাসনের টহল চলে গেলেই খোলা হচ্ছে দোকানপাট। এমন চোর-পুলিশ লুকোচুরিতে দোকানপাট বন্ধ রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। দূরপাল্লাসহ আন্তঃজেলার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই অবাধে যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে অটোরিকশা, ভ্যান, মাহিন্দ্রা। বন্ধ হয়নি এনজিওসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সমিতির কিস্তি আদায়।
জেলার প্রতিটি উপজেলার মাছ ও কাঁচাবাজারে নেই লকডাউনের প্রভাব। সাপ্তাহিক হাটের দিন আম-কাঁঠালের বাজারে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কোরবানি সামনে রেখে গরু-ছাগলের হাটেও একই রকম মানুষের সমাগম। প্রশাসনের তৎপরতা কম থাকায় গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে নেই কোনো লকডাউনের প্রভাব। শহরে দিনের চেয়ে সন্ধ্যায় মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। এসব হাট-বাজারে মাস্ক ছাড়া গা ঘেঁষাঘেঁষি করে চলছে কেনাবেচা।
এদিকে জেলার সর্বত্র আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রভাব। এ সংক্রমণকে করোনা বলে ধরে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব ব্যক্তি জানান, সামাজিক লজ্জা থেকে অনেকেই করোনার পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এর ফলে গ্রামীণ জনপদের ঘরে ঘরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশি রোগের প্রাদুর্ভাব। তারা আরও জানান, ফার্মেসিগুলোতে দেখা দিয়েছে প্যারাসিটামল, এন্টিহিস্টামিনসহ কফ সিরাপের সংকট।
এদিকে চলমান লকডাউনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীসহ নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ। কর্মসংস্থান হারানো শ্রমজীবী মানুষসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কারও কাছে হাত পাততে না পারায় দিন পার করছেন মানবেতরভাবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ কামাল হোসেন বলেন, কর্মহীন দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।
