লকডাউন: মানুষের মধ্যে বিধিনিষেধ না মানার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২১, ০৭:০৫ পিএম

করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে জারি করা কঠোর লকডাউনে মানুষের মধ্যে বিধিনিষেধ না মানার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমিত হওয়ার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে করোনা নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী ১ সপ্তাহে পরিস্থিতি করুণ হয়ে যাবে।

কঠোর লকডাউনের ১১ তম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে রাস্তায় লোকজন যেমন বিধিনিষেধ ভেঙে বের হচ্ছেন তেমনি যানবাহন ও খোলা দোকানপাটের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। তবে ছোট-বড় শপিংমল, মার্কেট, সিনেমা হল বন্ধ আছে।

রবিবার সকালে ঢাকার মিরপুর, রামপুরা, মালিবাগ, বনশ্রী, শান্তিনগর, সবুজবাগ, বাড্ডা, আজিমপুর, লালবাগ, কেল্লারমোড়, বকশীবাজার ও পলাশীর অলিগলিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

এসব এলাকায় প্রধান সড়কের দুপাশে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর খুলতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ওইসব দোকানপাট বন্ধই ছিল।

শান্তিনগরে টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য কেনার জন্য ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। সকাল ৯টা থেকে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। সেখানে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্রেতারা।

গত ১ জুলাই শুরু হওয়া এই লকডাউনের বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সেনা সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সকাল থেকে প্রাইভেট কার থামিয়ে জিজ্ঞাসা করেছি, কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে। বেশির ভাগ বলেন, মতিঝিলে বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ আছে। অথচ লকডাউনে সব কোম্পানিই বন্ধ থাকার কথা।

বেশ কিছু দোকানপাটের শাটারের একটি অংশ খুলে বিক্রয় কর্মীদের দোকানের বাইরে বসে থাকতে দেখা যায়। বিধিনিষেধের মধ্যে এসব দোকান খোলার কথা নয়।

তারা জানালেন, লকডাউনের প্রথম কয়েক দিন দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছিল। লকডাউন দীর্ঘায়িত হওয়ায় এবং ক্রেতার চাহিদা থাকায় বিধিনিষেধের মধ্যেও দোকান খোলা হয়েছে। পুলিশ দেখলে শাটার বন্ধ করে তারা সরে যান।

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সেলুন, বই-খাতার দোকান, কাপড়ের দোকান একই কৌশলে খোলা থাকতে দেখা যায়। আবার কিছু দোকানের সামনে দেখা যায় ‘জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ’ করতে মোবাইল ফোন নম্বর লিখে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাখা।

বেশ কিছু সেলুনেও ঝাঁপের একটি অংশ খোলা রেখে ভেতরে কাজ করতে দেখা গেছে কর্মীদের।

রতন বিশ্বাস নামে এক সেলুনকর্মী বললেন, “কেউ ফোন দিয়ে আসে, তখন টুকটাক কাজ করি। কাজ না করে তো উপায় নেই ভাই, ঘর ভাড়া, সংসার খরচ এগুলো তো আর কোনোভাবে ম্যানেজ করতে পারতেছি না। কী করব, পুলিশের যন্ত্রণার মধ্যেও কাজ করছি।”

মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের ডি-ব্লকে লেডিস মার্কেট এলাকায় দেখা যায়, প্রায় সব কাপড়ের দোকানই খোলা। সকাল সোয়া ১০টার দিকে পুলিশের গাড়ির আওয়াজ শুনে দোকান বন্ধ করে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন বিক্রেতারা। কিছু সময় পর আবার দোকানগুলো খুলতে দেখা যায়।

পুরান ঢাকার আজিমপুর, লালবাগ, কেল্লারমোড়, বকশিবাজার ও পলাশীর অলিগলি ও প্রধান সড়কে মানুষের চলাচল ও যানবাহন আগের দিনগুলো থেকে বেশি ছিল।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১ জুলাই থেকে সারাদেশে সাত দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। পরে জাতীয় কমিটির সুপারিশে এই লকডাউনের মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়ানো হয়।

রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটিই দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৬ হাজার ৪১৯ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি করুণ হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত