নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বপন কুমার বিশ্বাসের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
একই সঙ্গে আসামিকে কনডেম সেল থেকে সাধারণ সেলে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ সোমবার এই রায় দেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবর নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার নয়াটোল গ্রামে প্রথম স্ত্রী স্বপ্না ঘোষকে হত্যা করেন তার স্বামী স্বপন কুমার বিশ্বাস। স্বপ্নাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার ঘটনায় ঝগড়ার একপর্যায়ে স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়।
পরে তার গলায় দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়। প্রথমে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও পরে পুলিশ হত্যার অভিযোগ আনে এবং ওই বছরের ২৮ নভেম্বর স্বপনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত স্বপনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর এ মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন স্বপন।
২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। পরে জেল আপিল করেন দণ্ডিত স্বপন।
অর্থের অভাবে মামলা চালাতে পারছেন না উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের কাছে জেল থেকে চিঠি লেখেন স্বপন।
দারিদ্রতার কথা উল্লেখ করে স্বপনের প্রেরিত ওই চিঠিতে সাড়া দিয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বিনা পয়সায় মামলা পরিচালনা করেছেন।
তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী শিশির মনির। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।
আইনজীবী শিশির মনির বাসসকে জানান, বিনা ফিতে আসামি স্বপন কুমার বিশ্বাসের পক্ষে মামলা পরিচালনা করায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান আপিল বিভাগ।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিনা ফিতে তিনি মামলা পরিচালনা করেছেন উল্লেখ থাকবে বলে আপিল বিভাগ জানান।
খন্দকার মাহবুব হোসেন আসামি পক্ষে শুনানিতে বলেন, স্ত্রী স্বপ্না ঘোষকে পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী হত্যা করা হয়নি। পারিবারিক ঝগড়ার একপর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থায় ঘটনাটি ঘটেছে। এ কারণে আসামি স্বপন কুমার বিশ্বাসকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ড কোনটাই দেয়া সমীচীন হবে না।
এ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪/২ ধারা অনুযায়ী আসামির সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের বেশি হতে পারে না বলে যুক্তি উপস্থাপন করেন আদালতে।
আজ রায়ে স্বপন কুমার বিশ্বাসের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
