কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে সালিস বিচারে এক যুবককে (২৭) বেঁধে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে মিরপুর থানা পুলিশ।
সোমবার এ মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ঝুটিয়াডাঙ্গার ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা।
আটকরা হলেন মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নওয়াব আলী, আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক আলী।
ঘটনার পর থেকে নির্যাতনের শিকার ওই যুবক পলাতক রয়েছে বলে জানান তার পরিবার।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১২টার দিকে মালিহাদ ইউনিয়নের আশাননগর এলাকার ইটভাটার শ্রমিক ওই যুবক ও এক সন্তানের জননীর (২৫) সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগে প্রতিবেশীরা তাদের আটক করে। পরদিন রোববার সকাল ১১টায় আশাননগর মোড়ে তাদের গ্রাম্য সালিস হয়। এ সময় স্থানীয়দের সামনে এই ঘটনা যাতে পুনরায় না হয় এ জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন বিচারের রায় ঘোষণা করেন। রায় অনুযায়ী যুবককে জুতোর মালা গলায় দিয়ে অর্ধেক গ্রাম ঘোরানো হয়। এরপর তাকে পিছমোড়া করে বেঁধে ৩০টি লাঠির আঘাত এবং ৩ হাজার টাকা জরিমানা হয়। তাকে মারার সময় উপস্থিত জনতাকে সমস্বরে কে, দুই তিন করে গুনতে দেখা যায়।
ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, একই সালিসে পরকীয়ার অভিযোগে স্বামী তার সঙ্গে সংসার করতে আপত্তি জানায়। সালিশি বৈঠক থেকে তাকে দিয়ে জোর করে তালাক নামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়। পরে স্থানীয়রা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাকে বিয়ে দিতে চাইলে ওই নারী আপত্তি জানান। পরে তাকে মায়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, তার স্বামী ঢাকায় আনসার সদস্য হিসাবে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসার মনোমালিন্য চলছিল। অভিযুক্ত যুবকও ভালোবেসে এক নারীকে বিয়ে করেন।
স্থানীয় আমিরুল ইসলাম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ‘পুরো গ্রামের লোকজনের সামনে জুতোর মালা গলায় দিয়ে নেতারা ঘুরিয়েছেন। সেই সঙ্গে যুবককে লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে পিটিয়েছে। দেশে তো আইন রয়েছে। এমন সালিস করে শারীরিক নির্যাতন এ যুগে বিরল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচারের নামে লাঠি দিয়ে মারধরের ভিডিও দেখে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থল থেকে জুতোর মালাসহ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
