রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় হঠাৎ করে পদ্মায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে ১৫০ মিটার এলাকায় ১৫ টি বসতবাড়ি। এতে দৌলতদিয়ার বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মজিদ শেখের পাড়ায় ভাঙনের কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত।
কেউ ঘরের খুঁটি খুলছেন, কেউবা অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন ঘরের চাল। চোখের সামনে পদ্মার হিংস্র থাবায় একে একে গ্রাস করছে বসতভিটা। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবস্থাপনার কারণে ভাঙনের কবলে পড়ে ১০ মিনিটের মধ্যে ১০-১৫টি বাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়েছে। পদ্মা পারের আরও শত শত স্থাপনা হুমকির মধ্যে রয়েছে। লঞ্চঘাটের এলাকায় কিছু জিওব্যাগ ফেলা হলেও সবচেয়ে ভাঙন প্রবণ মজিদ শেখের পাড়া এলাকায় এ বছর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এ বিস্তীর্ণ এলাকা।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফা মুনশি জানান, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পাউবোসহ ঊর্ধ্বতন মহলকে বিস্তারিত অবগত করা হয়েছে। জরুরি নদী শাসনের কাজ না করা হলে মানচিত্র থেকে হয়তো দৌলতদিয়ার নাম মুছে যাবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজিজুল হক খান মামুন বলেন, হঠাৎ করে পদ্মায় নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙনের কথা জানার পর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে তাদের ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আ. রহমান মণ্ডল জানান, দ্রুত স্থায়ী নদী বাঁধের কাজ না করলে পুরো দৌলতদিয়া ঘাটের অস্তিত্বই বিলীন হবে। চিন্তা ও হতাশায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এলাকার মানুষ।
