কোনো যানবাহন যাতে দুর্ঘটনায় না পড়ে, সে জন্য ফেরির পন্টুনের ওপর সকল প্রকার যানবাহন রাখার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সেই নিষেধ অমান্য করে ফেরিতে ওঠার জন্য রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই পন্টুনে অপেক্ষা করে হরহামেশাই।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশপথ ও রাজধানীর সড়ক পথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট।
এই নৌপথ ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি পারাপার হয়।
ঢাকামুখী যানবাহনগুলোর চালকের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দর অংশে আসার সাথে সাথে দ্রুত ফেরির নাগাল পেতে শুরু হয় চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা।
ঘাটে ফেরি না থাকলেও এসব গাড়ির চালকেরা পন্টুনে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। অথচ পন্টুনের ওপর যানবাহন রাখা সম্পূর্ণ নিষেধ।
পন্টুনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ফেরি ভেড়ার পর পন্টুনের সঙ্গে ধাক্কায় যেকোনো সময় গাড়ি নদীতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
পন্টুন বা সংযোগ সড়কে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে আনলোড হওয়া গাড়ি ওপরে ওঠার রাস্তা না পেয়ে যানজট লেগে যায়। এতে ভোগান্তি তৈরি হয়।
সরজমিন (১৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে দেখা যায়, দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে টি ফেরি অপেক্ষা করছে আনলোড হবার জন্য কিন্তু পন্টুনে ও পন্টুনের পকেটে রাস্তায় সাত থেকে আট টি গাড়ি দাড়িয়ে আছে।
এ সময় পন্টুনে অপেক্ষারত প্রাইভেট গাড়ি চালক সোহেল রানার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কোনরকম বাধা ছাড়াই সরাসরি পন্টুনে উঠে গেছি, আমার আগের গাড়ি পন্টুনে উঠে গেছে তাই আমিও উঠে গেছি।
এভাবে পন্টুনে দাঁড়িয়ে থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানতে চাইলে উত্তরে তিনি বলেন, কপালে খারাপ কিছু থাকলে ঘটবে, এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকার ভিতর তেমন ঝুঁকি মনে করছি না।
এর আগে গত ১১ মে একটি মাইক্রোবাস ৫ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে দাঁড়িয়ে ছিল। তখন ঝোড়ো বাতাসে তার ছিঁড়ে পন্টুনটি নদীতে চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে র্যাম থেকে মাইক্রোবাসটিও নদীতে পড়ে যায়।
কয়েক মিনিটের মধ্যে চালকসহ মাইক্রোবাস পানিতে তলিয়ে যায়। ঘটনার দিন মাইক্রোবাস উদ্ধার হলেও নিখোঁজ চালকের লাশ উদ্ধার করা হয় ২ দিন পর।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) জামাল হুসাইন বলেন, নির্দেশনা আছে যানবাহনগুলো ফেরি জন্য ঘাটের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকবে, ফেরি আনলোড হবে পরে গাড়িগুলো ফেরিতে উঠবে। পন্টুনে যানবাহন রাখা যাবে না কিন্তু কিছু চালক আছে ফেরিতে উঠার জন্য তারা তাড়াহুড়ো করে ঘাটে এসেই পন্টুনে উঠে পড়ে, অনেক সময় আমাদের কিছুই করার থাকে না। তবে আমরা চেষ্টা করি যাতে যানবাহন পন্টুনে না উঠতে পারে।
