শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সরকারি জমি পেলেও ভোগ করতে পারছে না পরিবারটি। সেই জমি জোরপূর্বক ভোগদখল করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের আফাজউদ্দিন মুন্সিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কাগজপত্র ঘেঁটে ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে হানাদার বাহিনীর হাতে গুরুতর আহত হয়ে পা হারান জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের হাওলাদার কান্দি গ্রামের মৃত ইয়াকুব খাঁর ছেলে সরল খাঁ। মুক্তিযুদ্ধে গুরুতর আহত হওয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরল খাঁকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এক হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। সরল খাঁ গরিব হওয়ায় বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সংশ্লিষ্ট মহকুমা প্রশাসককে এক একর ৫০ শতক জমি বন্দবস্ত দিতে বলেন। পরে ১৯৭৪ সালের ৮ নভেম্বর মহকুমা প্রশাসক বিনা সালামিতে ও বিনা খাজনায় মুক্তিযোদ্ধা সরল খাঁকে চাষাবাদের জন্য উপজেলার ৯৮ নম্বর মৌজায় বড় কৃষ্ণনগর ১/১ খতিয়ানে ৫৮৭২, ৩২১৮, ৩২১৯ ও ৪২৩৫ দাগে এক একর ৫০ শতক সরকারি কৃষিজমি দলিলমূলে বন্দোবস্ত দেন। জমিগুলো সরল খাঁর বাড়ির পাশের আফাজউদ্দিন মুন্সিকান্দি গ্রামে।
পরে দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর সরল খাঁ মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জমিগুলো চাষাবাদ করে গেছেন সরল খাঁ। কিন্তু সরল খাঁর মৃত্যুর পর সেই এক একর ৫০ শতক জমি স্থানীয় প্রভাবশালী কাদির তালুকদার (৭০), দেলোয়ার তালুকদার (৩০), আলামিয়া তালুকদার (৫০), আকবর মৃধা (৭৫), আসলাম মৃধা (৬০) গংরা জাল দলিল বানিয়ে ভোগদখল শুরু করেন।
বিকেনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য সুলতান ঢালী, স্থানীয় বাসিন্দা লিটন হাওলাদার, আলমগীর কাজী, সোবাহান ঢালী বলেন, আমরা দেখেছি জমিটি চাষ করতেন সরল খাঁ। তিনি মারা যাওয়ার পর অন্যরা জমিটি ভোগদখল করছে। আমরা চাই সরল খাঁর সন্তানরা জমিটি ফিরে পাক।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সরল খাঁর বড় মেয়ে লালমতি বেগম (৫০) বলেন, বঙ্গবন্ধু বাবাকে জমি দিয়েছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর জমিগুলোর মালিক আমরা দুই বোন। কিন্তু সেই জমিগুলো আমরা ভোগ করতে পারছি না। জমির কাছেও যেতে পারি না। জাল দলিল বানিয়ে জমি ভোগদখল করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
লালমতি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। এখন আদালতে মামলা চলছে।
এদিকে আলামিয়া তালুকদার বলেন, দলিলমূলে ওই সম্পত্তির মালিক আমরা। ১৯৬৫ সালে আমরা জমিগুলো কিনেছি। জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালত যেই রায় দেবে সেই রায় আমরা মেনে নেব।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সরল খাঁর পরিবারের পাশে আছি। প্রশাসনকে বলব বিষয়টি দেখতে।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ইউএনওকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। ইউএনও রিপোর্ট দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
