পাবনা মানসিক হাসপাতাল

করোনা আক্রান্ত রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বাড়িতে!

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২১, ১২:১৭ এএম

পাবনা মানসিক হাসপাতালের ১৬ জন আবাসিক রোগীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের তিন চিকিৎসক ও সাতজন নার্সের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ডা. মাসুদ রানা সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে আক্রান্ত আবাসিক রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ডা. মাসুদ রানা বলেন, হাসপাতালে প্রবেশ ও ব্যবস্থাপনায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পরও চলতি মাসের শুরুর দিকে বেশ কয়েকজন ভর্তি রোগীর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। এদের মধ্যে ১৩ পুরুষ ও ৩ জন নারী। প্রথমে তাদের হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছিল। পরে বাকি রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় করোনায় আক্রান্ত ১৪ জনকে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুজন রোগীকে হাসপাতালেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশেষায়িত হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ না থাকলে নতুন কোনো রোগীকে ভর্তি নেওয়া হবে না।

ডা. মাসুদ রানা বলেন, উপসর্গ দেখা দেওয়ায় গত ১৩ জুলাই নমুনা পরীক্ষা করতে দেওয়া হলে ১২ জনের কভিড-১৯ পজিটিভ আসে। রোগীর পাশাপাশি হাসপাতালের তিন চিকিৎসক ও সাতজন নার্সও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারাও হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, মানসিক হাসপাতালে রোগীদের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে করোনা পরীক্ষার কারিগরি সহায়তা চান। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরীক্ষার জন্য সব ধরনের উপকরণ ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে কতজন আক্রান্ত সে সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য নেই। রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে করোনা আক্রান্ত হাসপাতালের আবাসিক মানসিক রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিতে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা হিসেবেও মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

পাবনার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রামদুলাল ভৌমিক বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীরা এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের চিকিৎসা না দিয়ে পরিবারের কাছে পাঠানোয় এসব রোগীসহ তাদের পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে। মানসিক রোগীদের সমাজে এমনিতেই অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়, সেখানে দায়িত্বশীলদের এমন আচরণ অনাকাক্সিক্ষত।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে, কালক্ষেপণ না করে মানসিক হাসপাতালে কভিড ইউনিট করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেনারেল হাসপাতালের সহযোগিতা নিতে পারেন।

জেলা কভিড ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ^াস রাসেল রহমান বলেন, মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। শনাক্ত রোগীদের কেন বাড়িতে পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত