রাজবাড়ী সদর উপজেলায় এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ উপবৃত্তি পাওয়া সব শিক্ষার্থীর মোবাইল সিমকার্ড নিজের জিম্মায় রেখে টাকা তুলে নেন। পরে আংশিক টাকা শিক্ষার্থীদের দেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বেথুলিয়া-বারলাহুরিয়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮৯২ জন। আর শিক্ষক রয়েছেন ২৬ জন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে শতাধিক শিক্ষার্থী সরকারের উপবৃত্তি পেয়ে থাকে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১২০০, ৭ম শ্রেণিতে ২৪০০, ৮ম শ্রেণিতে ২৬৭০ এবং ৯ম শ্রেণিতে ৩৩০০ আর ১০ম শ্রেণিতে ১৮০০ টাকা করে উপবৃত্তি দেয় সরকার। ভোগান্তি এড়াতে এবং সহজে উপবৃত্তি দিতে সরকার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অভিভাবকদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠায়। তবে অভিযুক্ত মাদ্রাসাটির নিয়ম ভিন্ন। এখানকার উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মোবাইলের সিম জমা রাখতে হয় অধ্যক্ষের কাছে। তবে শিক্ষার্থীরা জানে না তাদের উপবৃত্তির টাকা কবে, কখন সরকার দেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা জানান, মাদ্রাসার উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনের সিমকার্ড অধ্যক্ষ নিয়ে নেন। এরপর উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নিয়ে আংশিক টাকা দেন। অবশিষ্ট টাকা যারা উপবৃত্তি পায় না তাদের দেওয়া হবে বলে রেখে দেন। কিন্তু ওইসব টাকা কাউকে দেওয়া হয় না। দুই বছর ধরে অধ্যক্ষ এভাবেই উপবৃত্তির টাকা দিয়ে আসছেন।
অধ্যক্ষের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের বিষয়ে গত ১৪ জুলাই মাদ্রাসার ৩৩ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।
মাদ্রাসাটির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকীর বাবা আবু বক্কর বলেন, আমার মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু কোনো উপবৃত্তি সে পায় না। যারা পায় তাদের টাকাও অধ্যক্ষ মেরে খায়।
মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী পারভেজ শেখ বলেন, আমার ১২০০ টাকা উপবৃত্তি আসছিল। স্যার আমাকে ৩০০ টাকা দিয়ে আর দেননি। বলেন, ‘অন্যদের টাকা দেব।’
অধ্যক্ষ খোন্দকার আবদুল মান্নান শিক্ষার্থীদের সিমকার্ড নিজের কাছে রেখে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী অনেক। সবাই উপবৃত্তি পায় না। এ কারণে আমরা উপবৃত্তির টাকা তুলে সবার মধ্যে বণ্টন করে দিই। এজনই সিম কার্ড রাখা।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমি মো. সায়েফ বলেন, মাদ্রার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর করা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
