রূপগঞ্জে শ্রমিককে মারধর, অক্সিজেন প্ল্যান্টে ৪ ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ১১:৩৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় এক শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা চার ঘণ্টা কারখানার অক্সিজেন উৎপাদন রাখেন বলে জানা গেছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার বরপা এলাকায় মজুমদার গ্রুপের মালিকানাধীন একে অক্সিজেন লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চার হাজার ঘনলিটার অক্সিজেন উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে মালিকপক্ষ দাবি করেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মজুমদার গ্রুপের পোশাক কারখানা, স্টিল মিল, রি-রোলিং মিল ও একে অক্সিজেন নামে একটি অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শনিবার দুপুরে মজুমদার গ্রুপের বাকি কারখানা গুলো খোলা রয়েছে কিনা তা যাচাই করতে ওই কারখানায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় আতিকুল ইসলামের সঙ্গে থাকা এক আনসার সদস্য পোশাক কারখানা অথবা রি-রোলিং কারখানার শ্রমিক ভেবে অক্সিজেন প্ল্যান্টের শ্রমিক নজরুল ইসলামকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অক্সিজেন প্ল্যান্ট কারখানার শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে চার ঘণ্টা অক্সিজেন কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখেন। পরে ঊর্ধ্বতন শ্রমিকদের বুঝিয়ে পুনরায় অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু করেন। 

একে অক্সিজেন লিমিটেডের পরিচালক জয়নাল আবেদিন দেশ রূপান্তরকে জানান, মজুমদার গ্রুপের অক্সিজেন কারখানায় তিন শিফট মিলিয়ে প্রায় ১৭০ জন শ্রমিক কাজ করে। শনিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল তাদের প্রতিষ্ঠানে আসেন বলে তাকে জানানো হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা একজন আনসার সদস্য অক্সিজেন প্ল্যান্টে কর্মরত একজন শ্রমিককে মারধর করেন। তখন কারখানার অন্যান্য শ্রমিকেরা আতঙ্কিত হয়ে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। টানা চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আশ্বস্ত করলে বিকেল পাঁচটায় ফের উৎপাদন শুরু হয়। চার ঘণ্টায় তাদের অন্তত চার হাজার ঘনলিটার অক্সিজেন উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিধিনিষেধের মধ্যে কারখানা খোলা রাখার কারণ জানতে সেখানে গিয়েছিলাম। তারা অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জানার পর আমরা চলে এসেছি। সেখানে কোন শ্রমিককে মারধর করা হয়নি। কারখানার অভ্যন্তরীণ কোন ঝামেলার কারণে উৎপাদন বন্ধ হতে পারে।’

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহান বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল বিধিনিষেধের মধ্যে কিছু কিছু শিল্প কারখানা খোলা রাখা হয়েছে। মজুমদার গ্রুপের অক্সিজেন প্ল্যান্টের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প কারখানাও রয়েছে। তাদের অন্যান্য শিল্প কারখানা গুলো খোলা রয়েছে কিনা অন্যান্য কারখানার পাশাপাশি এই কারখানাটিতেও ম্যাজিস্ট্রেট গিয়েছিল। তারা অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জানতে পেরে ম্যাজিস্ট্রেট তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে চলে এসেছে। শ্রমিককে মারধরের এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত