ঈদ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দুই সপ্তাহ ধরেই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মানুষজনের বেপরোয়া চলাচল ছিল। মাস্ক পরা বা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না। এ অবস্থায় উপজেলায় করেনার সংক্রমণ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাট-বাজার ও গ্রাম এলাকায় কোনো প্রকার সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। তবে উপজেলার চা-বাগানগুলোয় চা ছাত্র যুব পরিষদ, চা-শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান পঞ্চায়েতের উদ্যোগে চলছে সচেতনতামূলক প্রচারণা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কমলগঞ্জে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার করোনায় দুজন মারা গেছেন। এর আগে ১৯ জুলাই এক দিনেই করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জন মারা যান। শমসেরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আবদুল কাইয়ুম করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার ৯ দিনের মাথায় ১৯ জুলাই অপর ভাই আলাউদ্দীনও (৪৫) উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। একই দিন ভোরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান আলীনগর ইউনিয়নের যোগীবিল গ্রামের দুই বোন আমেনা বেগম (৬৫) ও আলেকজান বিবি (৭০)।
এদিকে নমুনা দিয়ে চা-বাগান শ্রমিকদের অনেকেই করোনা পজিটিভ হচ্ছেন। কেউ পজিটিভ হওয়ার খবর পেলে চা-বাগান ছাত্র যুব পরিষদ, চা-শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান পঞ্চায়েত কমিটি নিজ উদ্যোগে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়ে তাকে নিজ ঘরে আইসোলেশনে থাকতে সহায়তা করছেন। এ কাজে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও সহায়তা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চা-বাগান এলাকায় প্রতিদিনই মাইকিং করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হচ্ছে।
