সম্প্রতি ‘ধাঁধা খেলার’ নামে অশ্লীলতার ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে ইউটিউবে। এসব ভিডিওতে ভিউয়ার বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন অশ্লীল প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে দর্শক আকর্ষণের হীন চেষ্টা করা হয়। এমন কন্টেন্ট থেকে শেখার কিছু নেই। এগুলো স্পষ্ট অশ্লীলতা ও নোংরামি।
অশ্লীলতা ভীষণ পাপের কাজ। আর মুসলিম সমাজে এর প্রচার-প্রসার আরও গর্হিত অপরাধ। কোরআনে কারিমে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ ইনসাফ, ইহসান ও আত্মীয় স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন, যেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।’ সুরা নাহল : ৯০
এই আয়াতের তাফসিরে ইনসাফ, ইহসান ও আত্মীয় স্বজনের প্রতি অনুগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাবতীয় অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
‘অশ্লীলতা’ শব্দের আরবি প্রতিশব্দ হিসেবে পবিত্র কোরআনে ‘ফাহশা’ ও ‘ফাহেশা’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অভিধান মতে, অশ্লীলতা মানে কুৎসিত, জঘন্য, অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও কদর্যরুচি। সাধারণভাবে বলা যায়, লজ্জাহীনতা, রুচিহীনতা, অসুন্দর, অশোভন- এসবের সামষ্টিক রূপই হলো অশ্লীলতা। অশ্লীলতা নিয়ে পবিত্র কোরআনে ২৪টি আয়াত রয়েছে। অশ্লীলতাকে আল্লাহতায়ালা হারাম করেছেন।
আধুনিক যুগের প্রখ্যাত তাফসিরবিদ আল্লামা ইবনে আশুর (রহ.) লিখেছেন, ‘ফাহশা বা অশ্লীলতার শাব্দিক অর্থ হলো বৈধ সীমারেখা অতিক্রম করা। পরিভাষায়, ইসলামি শরিয়ত কর্র্তৃক অনুমোদিত কথা ও কাজের সীমা অতিক্রম করাই অশ্লীলতা।’ আত তাহরির ওয়াত তানভির : ২০/১৭৯
কিন্তু আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এ সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও সীমিত করে দিয়েছেন। তার মতে, অশ্লীলতার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হলো ব্যভিচার। কাজেই ব্যভিচার ও ব্যভিচারে প্রলুব্ধকারী সব ধরনের ইঙ্গিত, কথা, কাজ, চিত্র ও ভঙ্গিমা অশ্লীলতার অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামে সব ধরনের অশ্লীলতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলে দাও, আমার পালনকর্তা হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, আর পাপ ও অসংগত বিরোধিতা এবং কোনো কিছুকে আল্লাহর শরিক করা যার কোনো সনদ তিনি পাঠাননি ও আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা তোমরা জানো না।’ সুরা আরাফ : ৩৩
অশ্লীল কাজ, কথা সমাজে ছড়ানো অপরাধ। কারও গোপনীয় চরিত্র বা স্থিরচিত্র প্রকাশ করাও জঘন্যতম অশ্লীল কাজ। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ইমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার পছন্দ করে, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ সুরা নুর : ১৯
ইসলামে কখনোই অশ্লীলতা, পৈশাচিকতা ও আদিম পশুত্বকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। মানব সভ্যতার ইতিহাসে অশ্লীলতা নির্মূলে ইসলাম সর্বাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অশ্লীল পোশাক, অশ্লীল নৃত্য, জেনা-ব্যভিচার ও বল্গাহীন জীবনযাপনকে ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। প্রকৃত ইসলামি সমাজব্যবস্থায় কখনোই অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা স্থান পায়নি। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। কেননা এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ সুরা বনি ইসরাইল : ৩২০
ইসলাম অশ্লীল কাজ হিসেবে ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত করো।’ সুরা নুর : ২
আল্লাহতায়ালা লজ্জাস্থান হেফাজতকারীকে ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘... যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হেফাজতকারী নারী; আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।’ সুরা আহজাব : ৩৫
