আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের শিল-পাটা

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ১২:৩০ এএম

আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনে হারিয়ে যেতে বসেছে বরিশালের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল-পাটা। স্থানীয়ভাবে এটা ‘পাটা-পুতা’ নামে পরিচিত। এককালে গ্রামীণ সমাজের প্রত্যেক ঘরে ঘরে শিল-পাটা ছিল রান্নার মসলা পেষার অন্যতম অনুষঙ্গ। কিন্তু কালের আবর্তে ঐতিহ্যের ধারক এই শিল-পাটা আজ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বর্তমানে বাজার থেকে প্যাকেটজাত গুঁড়ো মসলা কিনেই চলে নিত্যদিনের রান্নার কাজ। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শিল-পাটার বিকল্প হিসেবে এসেছে ব্লেন্ডার মেশিন। তুলনামূলক কম কষ্টসাধ্য হওয়ায় ব্লেন্ডারেই মসলা পেষার কাজ সারছেন গৃহিণীরা। তবে গ্রামের একটি অংশ এখনো শিল-পাটাতেই অভ্যস্ত।

বিলুপ্ত প্রায় এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে বরিশালে এখনো তৈরি হচ্ছে শিল-পাটা। বরিশালের দপদপিয়া এলাকার খয়রাবাদ সেতু সংলগ্ন বরিশাল-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে ক্ষুদ্র পরিসরে আবুল বাশারের শিল-পাটার ব্যবসা। ছোট একটি টিনের ঘরে কয়েকজন কারিগর দিয়ে তিনি শিল-পাটা তৈরি করছেন।  জানালেন, তার তৈরি শিল-পাটা বরিশালের বিভিন্ন জেলা উপজেলার পাশাপাশি বাইরের জেলায়ও পাঠানো হয়। এছাড়া বরিশাল নগরীর বাজার রোডে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী যুগ যুগ ধরে শিল-পাটার ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে।

শিল-পাটা তৈরির কারিগর জাফর হোসেন বলেন, শিল-পাটা তৈরির জন্য সাতক্ষীরা, হিলি, যশোর থেকে শিল পাথর কিনে আনা হয়। চারকোনা পাথর গুলোকে খোদাই করে গোলাকার করা হয়। পরে পাথরের ওপরের অংশে খুঁটে খুঁটে খোদাই করা হয়। বিভিন্ন নকশাও করা হয়। পরবর্তী সময়ে গিডা হলুদ মেখে পাথরটিতে উজ্জ্বল রং দেওয়া হয়। এতে পাথরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

পাটায় নিজেদের মনের মতো হরেক নকশা করেন তারা। এরমধ্যে সৃতিসৌধ, শাপলা, দোয়েল পাখি ও বিভিন্ন ধরনের ফুলের নকশা করা হয়।

কারিগররা জানান, এই কাজে শ্রম বেশি হলেও আয় খুবই কম। একটা শিল-পাটার জন্য তারা ৩৫ টাকা মজুরি পান। দিনে ২০ থেকে ২৫টি পাথর খোদাই করেন।

শিল-পাটা ব্যবসায়ী ‘রনি এন্টারপ্রাইজের’ ব্যবস্থাপক আজিজুল ইসলাম বলেন, বড় ও ছোট আকারের এক একটি শিল-পাটা তৈরি করতে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সময় লাগে। প্রতিটি শিল-পাটা বাজারে ১২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হয়। তবে এখন এর চাহিদা কম।

বাকেরগঞ্জের চরাদী গ্রামের গৃহিণী সেতারা বেগম বলেন, ‘পাটায় পেষা মসলার রান্নার ঘ্রাণ, স্বাদ মেশিনে গুঁড়ো করা মসলার চেয়ে অনেক বেশি। তাই তারা এখনো শিল-পাটায় পেষেই রান্নার মসলা তৈরি করেন।’ শুধু এ কারণেই একটু কষ্টসাধ্য হলেও গ্রামের অনেকেই শিল-পাটার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত