খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মোস্তফা কামাল ওরফে মীনা কামালের দখলে থাকা বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তির অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বছর ৩০ জুলাই রামপালে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনি। মৃত্যুর পর এসব সম্পত্তি ভোগদখল করছেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। মীনা কামাল এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, খুন, গুম, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৫টি মামলা ছিল।
দুর্নীতি দমন কমিশন খুলনা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটির ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মুন্সি ওরফে মীনা কামাল ওরফে ফাটাকেষ্ট নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি রূপসা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানার জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব সম্পত্তি উদ্ধারে বিভিন্ন দপ্তরে দুদকের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ২৪ জুলাই খুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। দুদকের ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মীনা কামালের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন জায়গা দখল করে একাধিক স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী আসমা কামাল, ছেলে জুয়েল হোসেন, মেয়ে ক্যামেলিয়া মোস্তফা জুঁই ও নাজনীন কামাল টুকটুকি এসব সম্পত্তি ভোগদখল করছেন। দুই দপ্তরে দখল করা এসব সম্পত্তির পরিমাণ কতটুকু চিঠিতে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মীনা কামালের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে খুলনা জেলা দুদকের পরিচালক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে অনিয়ম-দুর্নীতির সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
