আত্মসাৎ করা বৃদ্ধা অরণ্য বালা দের (৯১) বয়স্ক ভাতার ৩ হাজার টাকা ফেরত দিলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নারী সদস্য মিনু রানী দত্ত। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অসিম কুমার দেবের মাধ্যমে এ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
এর আগে উপজেলার বোয়ালগাঁও গ্রামের বৃদ্ধা অরণ্য বালা দে ছয় মাসের বয়স্ক ভাতা না পাওয়ায় সমাজসেবা অফিসে যান। সেখানে জানতে পারেন তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একটি নম্বরে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হচ্ছে। পরে বৃদ্ধার নাতি মিটন দত্ত ওই নম্বরে যোগাযোগ করে জানতে পারেন অ্যাকাউন্টটি স্থানীয় ইউপি সদস্য (সংরক্ষিত) মিনু রানী দত্তের ছেলে নিরোৎপল দত্তের।
এদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার বেলা ১১টায় ওই বৃদ্ধার ঘরে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ। সেখানে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃদ্ধা অরণ্য বালা দের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন তিনি। এ ছাড়া ইতিমধ্যে তৈরি করা ভূমিহীনদের তালিকায় ওই বৃদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি গৃহনির্মাণ করে দেবেন বলে তাকে আশ^স্ত করেন ইউএনও। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জামিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বৃদ্ধার নাতি মিটন দত্ত জানান, বয়স্ক ভাতার টাকা না এলে ঠাকুরমাকে নিয়ে সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করি। এরপর জানতে পারি স্থানীয় নারী ইউপি সদস্যের ছেলের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়েছে। কিন্তু তারা বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।
এ ব্যাপারে নারী ইউপি সদস্য মিনু রানী দত্ত ছেলের অ্যাকাউন্টে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘অরণ্য বালার কোনো মোবাইল নম্বর না থাকায় ছেলের অ্যাকাউন্ট নম্বর সমাজসেবা অফিসে দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা এসেছে, ওই টাকা ফেরত দিয়েছি।’
ইউএনও বলেন, বয়স্ক ভাতার টাকা ফেরত দিলেও নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
