‘নৌ ভ্রমণের চাঁদার টাকা ফেরত চাওয়ায়’ যুবককে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ০৩:৫৫ পিএম

নরসিংদীর মনোহরদীতে ঈদ পরবর্তী নৌ ভ্রমণের চাঁদার টাকা ফেরত চাওয়ায় আকরাম হোসেন শ্রাবণ (২২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে বখাটেরা।

এ সময় শ্রাবণের মামা সাখাওয়াত হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

সোমবার রাত ৯টায় উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের একদুয়ারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে কাপাসিয়ার সনমানিয়া থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরে দুপুরে শ্রাবণের বাবা মো. শাহজাহান দুইজনের নাম উল্লেখ করে ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামার নামে মনোহরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নিহত আকরাম হোসেন শ্রাবণ  উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের কামার আলগী এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিযনের আসাদ মিয়ার ছেলে হ্নদয় মিয়া (১৮) ও রান্দনদিয়া এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে মৃদুল মিয়া (১৬)।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই রবিবার হৃদয়ের নেতৃত্বে একদুয়ারিয়া এলাকার ৭৩ জন ছেলে পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলার লাখপুর শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌকা ভ্রমণে যায়। এ জন্য সবার কাছ থেকে ৫০০ করে টাকা নেয়া হয়।

কামার আলগী এলাকার বায়োজিদ (১৪) ও ইয়াছিন (১৭) নৌকা ভ্রমণে তাদের সাথে গিয়েছিলেন। করোনাকালে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করায় নরসিংদী জেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্টেট রিনাত ফৌজিয়া লাখপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নৌকাটি আটক করে।

এ সময় বিধিনিষেধ ভঙ্গের কারণে হৃদয়, মৃদুল, বায়োজিদ ও ইয়াছিনসহ ৩২ জনকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। যার ফলে নৌকা ভ্রমণ পন্ড হয়ে যায়।

পরে বায়োজিদ ও ইয়াছিন নৌকা ভ্রমণ না করার কারণে হৃদয়কে তাদের চাঁদা ও জরিমানার টাকা ফেরত দিতে বলেন। কিন্তু হৃদয় তা অপরাগত জানান।

পরে তারা টাকা উদ্ধারের জন্য শ্রাবণের কাছে বিচার দেন। শ্রাবণ টাকার জন্য হৃদয়কে চাপ দেন।

পরে হৃদয় জরিমানার টাকা নেয়ার জন্য শ্রাবণকে সোমবার রাতে একদুয়ারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আসতে বলেন। রাতে শ্রাবণ তার মামা সাখাওয়াতকে নিয়ে স্কুলের সামনে আসলে হৃদয় ও মুদুলসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।

তারা বাঁশের লাঠি ও চালা দিয়ে শ্রাবণ ও সাখাওয়াতকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শ্রাবণকে মৃত ঘোষণা করেন। আর সাখাওয়াত মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতের বাবা শাহজাহান বলেন, আমার ছেলে নৌ ভ্রমণে যায়নি। সে অন্যের ভালো করতে গিয়েছিল। কিন্তু সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য তারা আমার ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেললো। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিচুর রহমান বলেন, সকালে কাপাসিয়ার সনমানিয়া এলাকায় হ্নদয়ের গ্রামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে হৃদয় ও মৃদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আজকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে। শ্রাবণের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত