উপকূলীয় বাগেরহাটে টানা বৃষ্টির পানিতে ৯ হাজার চিংড়ি ঘের ও সাড়ে সাত হাজার পুকুর ভেসে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
গত তিন দিনের টানা বর্ষণে জেলার রামপাল, মোংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও বাগেরহাট সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মাছের ঘের ভেসে গেছে।
গত মে মাসে বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র জোয়ারের পানিতে ছয় হাজারের অধিক মাছের ঘের ভেসে যায়। ওই সময়ে চাষিদের ক্ষতি হয় অন্তত নয় কোটি টাকা।
বাগেরহাট জেলায় ছোটবড় ৬৭ হাজার মাছের ঘের রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ৩৩ হাজার মেট্রিকটন মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাঁশতলি গ্রামের মাছ চাষি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৫০ বিঘা জমিতে মাছের চাষ করি। গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে তা তলিয়ে মাছ বের হয়ে গেছে। এতে আমার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা।
আরেক চাষি পাভেল হোসেন বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেছিলাম। ঘেরে গলদা, বাগদা ও সাদা মাছের চাষ করি আমি। বাগদা চিংড়ি বড় হয়ে উঠেছিল। সম্প্রতি ধরে বাজারে বিক্রি শুরু করেছিলাম। গত তিন দিনের টানা বর্ষণে ঘের ভেসে মাছ বের হয়ে গেছে। এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবো তা বুঝতে পারছি না।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া এলাকার ঘের মালিক শেখ হুমায়ুন কবির বলেন, দেড়শ’ বিঘা জমিতে আমার মাছের ঘের। এই ঘেরে বাগদা ও সাদা মাছের চাষ করি।
তিনি বলেন, গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র প্রভাবের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে মাছ ভেসে যায়। পরে আবার ঘেরে সাদা মাছ ও বাগদার পোনা ছাড়ি। এইবার টানা বৃষ্টির পানিতে ঘের ভেসে আমাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে।
বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাটে টানা বৃষ্টির পানিতে কয়েক হাজার মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে চাষিদের।
তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের বড় ভূমিকা রাখে বাগেরহাট জেলা। অনেক চাষি ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছের চাষ করে থাকে। এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সাহায্য দরকার। সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান এই চিংড়ি চাষি নেতা।
বাগেরহাট মৎস্য বিভাগের বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) এ এস এম রাসেল বলেন, গত দু’দিনের অতি বৃষ্টি ও প্রবল জোয়ারের পানিতে জেলার ৪৭টি ইউনিয়নে মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে। এর মধ্যে সাড়ে সাত হাজার পুকুর, নয় হাজার চিংড়ির ঘের রয়েছে।
সব মিলিয়ে মাছের ঘের ভেসে প্রায় ১১ কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।
