ফেনীর সোনাগাজীর প্রায় পাঁচ লাখ লোকের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি জনবলসংকটে খুঁড়িয়ে চলছে। ২০১৪ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও আগের জনবল আর চিকিৎসা সরঞ্জামেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। তালাবদ্ধ কোটি টাকার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। চিকিৎসক-কর্মচারী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নিজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে উপজেলার নয় ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বাসিন্দারা কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবনটি ১৯৭৭ সালে নির্মিত। ভবন সংকটের কারণে দ্বিতল ভবনের নিচতলায় জরুরি বিভাগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও দ্বিতীয় তলায় মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের কার্যক্রম চালানো হয়। ভবনের পলেস্তারা খসে পড়া, দেয়ালের ফাটল, দরজা-জানালা বিকল, কোথাও কোথাও ভবনের খুঁটির রড বেরিয়ে পড়ায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক-কর্মচারীরা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন ৬০-৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে। বেড সংকটের কারণে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫০-৩০০ রোগী চিকিৎসা নেন। উপজেলায় ১৯ জন চিকিৎসকের স্থলে রয়েছেন ১০ জন। তারা উপজেলার পাঁচটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রেও চিকিৎসা দেন। হাসপাতালে প্রতিদিন মাত্র দুজন চিকিৎসক চিকিৎসা দিচ্ছেন। রোগীর চাপে মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্টদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের একমাত্র গাইনি কনসালট্যান্ট তাহেরা খাতুন রোজি গত ২৭ জুন ফেনী জেনারেল হাসপাতালে বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে সিজার অপারেশন বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালে নেই কোনো অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক। দুটি ইসিজি মেশিন থাকলেও নেই কার্ডিওগ্রাফার। টেকনিশিয়ান না থাকায় অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন তালাবদ্ধ ঘরে পড়ে আছে। দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও নেই টেকনিশিয়ান। একটি অত্যাধুনিক ডেন্টাল মেশিন আছে, কিন্তু ডেন্টিস্ট নেই। হাসপাতালে ২৭ জন নার্সের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৭ জন। ৯ জন মিডওয়াইফের স্থলে আছেন ৩ জন এবং ৫ জন সুইপারের স্থলে আছেন মাত্র ২ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উৎপল দাশ বলেন, ‘হাসপাতালের সমস্যা নিয়ে আমরা প্রতি মাসে রিপোর্ট করি। ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।’
জেলা সিভিল সার্জন ডা. রফিক উস-ছালেহীন বলেন, ‘সোনাগাজীসহ জেলার সব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি চাহিদাপত্রের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। অতিদ্রুত সংকট দূর হবে।’
