গোয়ালন্দকে অনেকেই পদ্মার ইলিশের জন্য চেনেন, প্রতি বছর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার পদ্মায় শ্রাবণ মাসের এই সময়ে ইলিশে পরিপূর্ণ থাকার কথা থাকলেও এবার ঘটেছে ব্যতিক্রম।
এবার পদ্মায় মিলছে না ইলিশ। জেলে ও ব্যবসায়ীদের কাছে নেই তেমন ইলিশ মাছ। অথচ শ্রাবণ মাসের বৃষ্টিতে ইলিশে সয়লাব থাকার কথা জেলে ও ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে এবার কাঙ্খিত ইলিশ ধরা পড়ছে না দৌলতদিয়ার পদ্মায়।
জেলেরা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পদ্মায় জাল ফেলে পাওয়া গেলেও এবার ইলিশের আকাল পড়েছে। জাল ফেলেও মিলছে না ইলিশ মাছ। ৪ আগস্ট বুধবার সকালে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ফেরিঘাটে গিয়ে জেলে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
দৌলতদিয়ার পদ্মার জেলে মানিক সরদার বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মোটামুটি ভালো ইলিশ পেলেও এ বছর বর্ষা মৌসুমে সে পরিমাণ ইলিশ মাছ পাচ্ছি না, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনেকটাই কমে গেছে। একদিকে করোনার কারণে লকডাউন অন্যদিকে নদীতে কাঙ্খিত ইলিশের দেখা না পাওয়া, এই রকম হলে এই লকডাউনে আমাদের মতো গরিব জেলেদের বাঁচাটাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।
জেলে মো. ইসহাক মন্ডল বলেন, আমাদের পেশাই মাছ ধরা, মাছ বিক্রি করে আমাদের সংসার চলে, এবার ভরা মৌসুমে ইলিশের আকাল সাথে অন্যান্য মাছ তেমন একটা নদীতে পাওয়া যাচ্ছে না। নদীতে মাছ না পাওয়ায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।
দৌলতদিয়ার মাছ ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা বলেন, প্রতি বছর ভরা মৌসুমে আমাদের এখানে অনেক ইলিশ পাওয়া গেলেও এই মৌসুমে পদ্মায় ইলিশ তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলো পাচ্ছি সেগুলর দাম অনেক। বর্তমানে একটি ইলিশের বাজার মুল্য ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা করে যাচ্ছে, এই অতিরিক্ত দামে কেনা মাছগুলো ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইলিশ শিকারের ওপর ৬৫ দিনের নিষেধ ছিল যা এখন বলবৎ নেই। যেহেতু এখন পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে কারণে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ইলিশের দেখা কিছুটা হলেও মিলবে। সমুদ্র থেকে নদীতে মাছ আসতে কিছুটা সময় নেয় তাছাড়া মানব সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা বেড়ে যাওয়া আমাদের গোয়ালন্দের পদ্মায় ইলিশের দেখাটা কমে গেছে। তবে দেরি করে হলেও পদ্মায় মাছ পাওয়া যাবে।
