মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধানি জমি তৈরি করতে না পারলেও এবার মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের বর্ষণ ও উজান থেকে ঢলের পানি নেমে আসার আগেই তড়িগড়ি করে জমি চাষ ও রোপণে ব্যস্ত এখানকার কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর।
তবে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম অর্থাৎ মাত্র ৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এসব জমিতে বেশ কয়েকটি জাতের ধান রোপণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার পতনউষার, আদমপুর, মুন্সীবাজার, মাধবপুরসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কেউ জমিতে হাল চাষ করছেন। কেউবা জমির আইল কাটছেন, আবার কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে হাল চাষ দেওয়া জমিতে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষকেরা আশা করছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার জমিতে ধান ভালো হবে। তারা বলছেন, প্রতিবছর ধলাই, লাঘাটা ও মনু নদীর প্রতিরক্ষাবাঁধ ভেঙে বন্যার পানিতে এলাকার হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়।
চলতি বছরে কাঙ্খিত বৃষ্টিপাতও হয়নি। আবার গত বছর লাঘাটা ও ধলাই নদী খনন ও গুরুত্বপূর্ণ বাঁক এলাকার বালুর চর অপসারণ করায় বন্যার আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ফলে চলতি মৌসুমে সুষ্ঠুভাবেই পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবেন এমনটায় স্বপ্ন কৃষকদের।
কমলগঞ্জ পৌর এলাকার কৃষক ওয়াজিদ মিয়া, মাহমুদ আলী, শ্রীনাথপুর গ্রামের শাহেদ আলী, পতনঊষার ইউনিয়নের কৃষক মফিজ মিয়া, আরজু মিয়াসহ কয়েকজন কৃষক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বেশ ভালো ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে ধানের দাম খুব ভালো পাওয়ায় বেশ লাভবান হয়েছেন তারা। এবার আমন মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরণের বর্ষা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়ার আগেই ধান রোপণ শুরু করেছেন তারা। যেকোনো সময় পানিতে জমি তলিয়ে গেলে ধান লাগানো মুশকিল হয়ে পড়বে। তাই মৌসুমের শুরুতেই আমন ধান রোপণ করছেন কৃষকেরা।
তবে সময়মতো কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পতনউষার, শমসেরনগর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কেওলার হাওর ও বিভিন্ন গ্রামের প্রচুর পরিমাণে জমি অনাোদি রয়ে গেছে। পানির অভাবে এসব জমি হালচাষ করা যায়নি।
পতনউষারের কৃষক তোয়াবুর রহমান, শমসেরনগরের কৃষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পানির অভাবে জমি হালচাষ না করার কারণে এবার আমনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। সেজন্য কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৩৭০ হেক্টরের জায়গায় এখন পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ হয়েছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো থাকায় হয়েছিল। গত বছর প্রায় ১৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আমন রোপণ করেছিলেন কৃষকেরা। তবে এ বছর এ পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ হয়েছে। তবে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন ধান রোপণ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।’
