হোমনায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত ৩০

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ০৯:১৬ পিএম

কুমিল্লার হোমনায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর ও ওমরাবাদ গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এই দুই গ্রামের লোকজন।

আহতদের কয়েক জনকে ঢাকা ও কুমিল্লায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকিরা হোমনা ও মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি বলে জানান হোমনা থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ওমরাবাদ গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে সিএনজি চালক সাব্বির হোসেন সিএনজির হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে কাশিপুর গ্রামের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাব্বিরকে তারা মারধর করে।

এ খবর পেয়ে ওমরাবাদ গ্রামের লোকজন সাব্বিরের পক্ষ নিয়ে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে কাশিপুর গ্রামে ওই ছেলেদের খুঁজতে যায়। এ সময় পাল্টাপাল্টি ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গ্রামবাসীকে শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন দুই পক্ষের মধ্যে সালিশ বৈঠক বসার কথা ছিল। কিন্তু শনিবার গণটিকা দেওয়ার তারিখ থাকায় সালিশের তারিখ পরিবর্তন করতে হয়।

শনিবার লোকজন নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান কাশিপুর বাজারে টিকা কার্যক্রমে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে পুনরায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। ওই সময় ওমরাবাদ ও কাশিপুর উভয় গ্রামের লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজন অবস্থায় অন্তত ২০ জনকে ঢাকা ও কুমিল্লায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে হোমনা, তিতাস, মুরাদনগর- তিন থানার পুলিশ এসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। পরে কুমিল্লা থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কায়েস আকন্দ বলেন, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হোমনা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার স্পীনা রানী প্রামাণিক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হোমনা, তিতাস ও মুরাদনগর থানা পুলিশের পাশাপাশি কুমিল্লা থেকে ডিবি পুলিশ এসেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত