জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১১ সালে চালু হয় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ। ইতিমধ্যে স্নাতক শেষ করেছেন পাঁচটি শিক্ষাবর্ষের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। কিন্তু নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকোত্তর করতে পারেননি তারা। মূলত শিক্ষকদের অনাগ্রহে দীর্ঘদিনেও স্নাতকোত্তর কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এত বছর স্নাতকোত্তর চালু না হওয়া আমাকে অবাক করেছে। বিষয়টি জানার পর আমি কাজ শুরুর নির্দেশনা দিয়েছি।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ১০ শিক্ষক দিয়ে চলছে ইইই বিভাগের স্নাতক কার্যক্রম। যদিও তাদের মধ্যে তিনজন শিক্ষা ছুটিতে আছেন। ল্যাব, শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকটের অজুহাতে বিভাগে স্নাতকোত্তর কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করছেন শিক্ষকরা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বিভাগের প্ল্যানিং কমিটিতে এ-সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবই তোলা হয়নি। বরং একাধিক সভায় শুরু না করার বিষয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষকরা।
বিভাগীয় প্রধান মো. মাহমুদুল হাসান জানান, স্নাতকোত্তর চালুর বিষয়ে প্রশাসনকে লিখিত কোনো প্রস্তাব তারা দেননি, সহসা দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই। তবে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবসহ সব ধরনের সংকট দূর করে চালুর পক্ষে বলে জানান তিনি।
এত বছরে স্নাতকোত্তর চালু না হওয়াকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যায় আখ্যায়িত করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান বলেন, ‘স্নাতক অনুমোদন থাকলেই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোনো বিভাগ অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়ে স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি এমনকি ডিপ্লোমা করাতে পারে। তবে লিখিত অভিযোগ এলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘বিভাগ স্নাতকোত্তর চালুর বিষয়ে প্রয়োজনবোধ করেনি বলেই আমাদের লিখিত জানাইনি। তবে সম্প্রতি বিষয়টি উপাচার্যের নজরে আসার পর তিনি বিভাগকে উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’
