টাকা আদায়ের জন্য শিশুকে হত্যা করে রেখে দেওয়া হয় লাশ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ০২:০১ পিএম

পাঁচ বছরের জিসানুল ইসলাম আকাইদ ৬ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসার সামনে ৫-৬ জন সমবয়সীর সঙ্গে খেলতে যায়। সন্ধ্যার আগে অন্য শিশুরা বাসায় ফিরে গেলেও আকাইদ ফেরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে ছেলের সন্ধান না পেয়েছে বাবা মো. আব্দুল মালেক স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরে স্থানীয়দের কাছে জানতে পারেন, আকাইদকে অজ্ঞাতনামা রিকশাচালক রিকশা করে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে নুর মসজিদের দিকে নিয়ে যায়। ওই চালক অজ্ঞাতনামা বিবাদিদের সহায়তায় অপহরণ করে আকাইদকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে রাখে। এ তথ্য জানার পর ৭ আগস্ট আব্দুল মালেক অপহরণের মামলা করেন।

এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানিয়েছে মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আ. আহাদ।

এসআই মো. হাবিবুর রহমানকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। এরপর ডিসি (মতিঝিল বিভাগ)-এর নেতৃত্বে একাধিক টিম গঠন করে ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা হতে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।  

ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অজ্ঞাতনামা রিকশা চালক অপহৃত শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি খিলগাঁও থানা ও আশপাশের এলাকায় রিকশা গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

সোমবার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খিলগাঁও মধ্য নন্দীপাড়া নূর মসজিদ গলির একটি ৫ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি বাচ্চার মৃতদেহ পড়ে আছে— এমন খবর পায় পুলিশ। দ্রুত মামলার তদন্তকারী অফিসারসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্রাইম সিন সংরক্ষণ করেন।

প্রাথমিকভাবে পরিহিত প্যান্টের রং দেখে ধারণা করা হয়, অপহৃত আকাইদের লাশ এটি। পরবর্তীতে আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সন্তানকে শনাক্ত করেন। এরপর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

খিলগাঁও থানা এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. সেলিম (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। সেখান থেকে জানা যায়, কীভাবে অপরিচিত মানুষের ক্ষোভের শিকার হয়েছে শিশুটি।

রিকশাচালক সেলিম জানায়, তার স্ত্রী নুপুর আক্তার দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও পেটের টিউমারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। এ নিয়ে বাড়িটির মালিক বাবুলের স্ত্রীর কাছে ৩ আগস্ট টাকা চেয়ে ব্যর্থ হন সেলিম। তখন পরিকল্পনা করে, কোন অবৈধ জিনিস বাবুলের বাড়িতে রেখে তা অপসারণ করার জন্য মোটা অংকের টাকা আদায় করবে। সে চিন্তা থেকেই একটি ক্ষুর কিনে নিজের কাছে রেখে দেয়। এরপর নন্দীপাড়ায় রিকশা নিয়ে গেলে আকাইদকে দেখতে পায়। তাকে বাবুলের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় নিয়ে বেধে ধারালো ক্ষুর দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এর আগে বাড়ি পরিষ্কারের কথা বললেও ৭ আগস্টের পর সেলিমকে ডাকেননি বাড়ির মালিক বাবুল। এতে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এ দিকে পচা গন্ধ বের হতে শুরু করে। তখন খোঁজাখুজির একপর্যায়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলায় মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন বাবুল।

পুলিশ অপহরণে ব্যবহৃত রিকশা, অপহরণকারীর টিশার্ট ও লুঙ্গি, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ক্ষুর জব্দ করেছে। আসামিকে বিধি মোতাবেক আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। রুজুকৃত মামলায় পেনাল কোড ৩০২/২০১ ধারা সংযোজন করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত