নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে বন্দি হয়ে আছে দুই শতাধিক স্কুল শিক্ষার্থী। চলতি বছরে দেশটির উত্তরাঞ্চল থেকে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে। দেশটিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো গত সাত বছর ধরেই স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেছে। এই টার্গেটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পশ্চিমা শিক্ষাব্যবস্থা বিরোধিতা। ২০১৪ সালে বোকোহারাম নামের সন্ত্রাসী দলটি ৩০০ স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে, সেই থেকেই মূলত গণ-অপহরণের ঘটনা শুরু দেশটিতে।
নাইজেরিয়ার অনেকেই এই অবস্থাকে ‘অপহরণ মহামারী’ হিসেবে বলছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সন্ত্রাসীরা আরও তৎপর হয়ে ওঠে। সন্ত্রাসীরা চায় নাইজেরিয়াতে ‘ইসলামিক শাসন’ প্রতিষ্ঠা এবং নারীদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করতে। আর এ নিয়েই দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে দলগুলো। দ্বন্দ্বের এই কারণ ছাড়াও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করাও একটা অন্যতম কারণ।
কিন্তু সমস্যা হলো, বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী দলের বাইরে আরও অনেক দল তৈরি হয়েছে যারা শিক্ষার্থীদের অপহরণ করছে শুধু মুক্তিপণের জন্য। গত মে মাসে কাদুনা অঞ্চল থেকে ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছিল। অপহৃতদের মধ্যে একজন ১৬ বছর বয়সী লুইসি। গত সপ্তাহে লুইসিসহ আরও ২৭ জনকে মুক্তি দেওয়া হয় মুক্তিপণের বিনিময়ে। লুইসির মার দানবোয়ে বেজে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমার মেয়ে ফিরে এসেছে। সে শারীরিকভাবে ঠিক আছে। আমার সব কিছু বিক্রি করে মুক্তিপণের অর্থ জোগাড় করি। মাত্র এক টুকরো জমিই আমার অবশিষ্ট ছিল সম্পদ বলতে।’ বেজের মতো আরও অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের মুক্তির জন্য অর্থের সন্ধান করে যাচ্ছেন। কিন্তু আর্থিকভাব অসচ্ছল হওয়ায় তারা সন্তানদের মুক্ত করতে পারছেন না।
সন্ত্রাসী দলগুলো নিয়মিতই নাইজেরিয়ার শহরাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে। নাইজেরিয়া ও নাইজারের মধ্যবর্তী ঘন অঞ্চল থেকে ওই সন্ত্রাসী দলগুলোর কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। বলা হয়, সন্ত্রাসীদের অধিকাংশই ফুলানি গোষ্ঠীর সদস্য। পশ্চিম আফ্রিকার এই যাযাবর গোষ্ঠীটির সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীদের লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জায়গা থেকেই মূলত নাইজেরিয়ায় বোকো হারামের মতো উগ্র দলের সৃষ্টি। প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারির সরকার গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব মেটানোর বদলে সন্ত্রাসীদের নির্মূলে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হওয়ার বদলে আরও ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
