‘দূতাবাস কর্মীদের সরাতে’ কাবুলে ৩০০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২১, ১১:১৯ এএম

চারদিক থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলকে ঘিরে ধরতে যাচ্ছে তালেবানরা যোদ্ধা। গোয়েন্দা তথ্যের মূল্যায়ন করে সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ৩০ দিনের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে কাবুল, নিয়ন্ত্রণ হারাবে ৯০ দিনের মধ্যে।

আল জাজিরা জানায়, এমন পূর্বাভাসের মাঝে কাবুলে নিজেদের দূতাবাস কর্মীদের সরাতে বাড়তি ৩০০০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাইডেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এ তথ্য দেন।

এর আগে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত আফগানিস্তান ত্যাগের আহ্বান জানান অ্যাম্বাসেডর।

মে মাস থেকে ২০ বছরের যুদ্ধক্ষেত্র আফগানিস্তান ছাড়ছে মার্কিন সেনারা, আগস্টের শেষ নাগাদ সম্পন্ন গবে প্রত্যাহার। আর এ কয়েক মাসে দেশটির অর্ধেকের বেশি অংশ চলে গেছে তালেবান যোদ্ধাদের দখলে।

সর্বশেষ খবরে জানা যায়, আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহার এবং তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাত দখলে নিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা।

এ নিয়ে গত শুক্রবার থেকে ১২টি প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিল তালেবান যোদ্ধারা।

রাজধানী থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ গজনি শহরও এখন তালেবান যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানান, কর্মীদের সরানোর পরিকল্পনা করা হলেও দূতাবাস খোলা থাকবে।

আরও বলেন, “আমরা উন্নত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে কাবুলে আমাদের নাগরিকদের উপস্থিতি কমিয়ে আনছি।”

পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি নিশ্চিত করেছেন যে, দূতাবাসের কর্মী ও বিশেষ ভিসা প্রাপ্ত দোভাষী আফগানদের সরিয়ে আনতে ৩ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

সঙ্গে জানান, নতুন করে পাঠানো সেনারা আফগানিস্তানে বেশি দিন থাকবে না।

আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সহায়তায় কাবুলের বিমানবন্দরে রয়েছে ৬৫০ সেনার একটি দল। তার সঙ্গে যুক্ত হবে বাড়তি ৩ হাজার সেনা।

আল জাজিরা আরও জানায়, নিজেদের নাগরিক ও আফগান দোভাষীদের সরিয়ে নিতে দেশটিতে ৬০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য।

এদিকে আফগান সরকারি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা বন্ধে তালেবানকে ক্ষমতার অংশীদার করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

কাতারের মাধ্যমে তালেবানদের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে সংলাপে মধ্যস্থতা করে আসছে দোহা।

জাতিসংঘ জানায়, গত এক মাসে আফগানিস্তানে ১ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত