আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল জয়ের দ্বারপ্রান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠী তালেবান। এমন অবস্থায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানীজুড়ে। তালেবান যোদ্ধাদের মিছিল নিয়ে শহরে প্রবেশ, অস্ত্রসহ শোডাউন আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে জনমনে। কোথাও কোথাও হামলার খবরও পাওয়া গেছে। কাবুলের বাসিন্দারা বলছেন, এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখেননি তারা। যদিও তালেবানদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রতিশোধমূলক কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
কাবুলের সরকারি অফিস-আদালত প্রায় সব বন্ধ। বহু দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। কাবুলের বাসিন্দারা বলছেন, ভয়ংকর এক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন তারা। অনেকের অভিযোগ, সড়কের কোনো পয়েন্টে চোখে পড়ছে না আফগান বাহিনীর সদস্যদের। আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অনেকে তালেবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করছে, এমন সংবাদও পাওয়া যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান তালেবানের শাসনে ছিল। এর মধ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদার নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট সেখানে যৌথ অভিযান চালায়, যার মাধ্যমে তালেবান শাসনের অবসান ঘটে। এরপর দীর্ঘ ২০ বছর তালেবানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর লড়াই চলে। কিন্তু লড়াইয়ে তালেবানদের পরাজিত করতে না পেরে শেষমেশ কাতারের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুদিন আগেই সমঝোতা চুক্তি হয়। ওই চুক্তির পরই নাটকীয়ভাবে তালেবানরা আফগানিস্তানের একের পর এক শহর দখল করতে থাকে।
অভিযানে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতাদের দমন করা হলেও ‘শান্তিরক্ষার স্বার্থে’ সেখানে ঘাঁটি গেড়ে অবস্থান করছিল পশ্চিমা সেনারা। কিছু বছর পার হওয়ার পর সেখান থেকে ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্র বাদে অন্য দেশের সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সেনাদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করলে প্রত্যন্ত এলাকা দখল করে থাকা তালেবান কাবুলের ক্ষমতার মসনদে উঠতে জোর লড়াইয়ে নামে। যদিও এর মধ্যে তালেবানের সঙ্গে কাবুলের শাসকগোষ্ঠীর সংঘাতের অবসানে কাতারসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতায় নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সব আলোচনাই ভেস্তে গেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন বলছে, আফগানিস্তানে এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পথে হাঁটছে তালেবানরা। এই সরকারে বর্তমান সরকারের প্রতিনিধিরা থাকবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বেশ কয়েকজন আদিবাসী নেতার নাম উঠে আসছে, যাদের তালেবানের মন্ত্রিসভায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
