রাজবাড়ী জেলার ২০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি ডাক্তার সংকটে এখন মৃতপ্রায়। গাইনি চিকিৎসক নেই পাঁচ মাস ধরে। এখানকার আটটি পদের মধ্যে পাঁচটি পদই শূন্য। ফলে জেলার প্রসূতি ও অন্তঃসত্ত্বা নারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নারীরা ফিরে যাচ্ছেন শূন্য হাতে। ডাক্তার না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সিজারিয়ান অপারেশন।
জানা যায়, রাজবাড়ী শহরের ৩ নম্বর বেড়াডাঙ্গা সড়কে অবস্থিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসারের একমাত্র পদ, যেটি গত ৮ মার্চ থেকে শূন্য। অফিস সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। দাই-নার্স দুজনের মধ্যে আছেন একজন। একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটির লক্করঝক্কর অবস্থা। বেশি দূরের রোগী আনা-নেওয়া করা যায় না। সপ্তাহের প্রতি শনি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রসূতি নারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হতো। সেটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেন্দ্রটিতে ডেলিভারিও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসে। গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসে স্বাভাবিক ডেলিভারি করা হয়েছে ৪৩ জনের। যেখানে তার আগের চার মাসে করা হয়েছে ৮১ জনের। দায়িত্বরত নার্সরা জটিল ডেলিভারির রোগীকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন ক্লিনিকে।
ডাক্তার সংকটের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরিব রোগীরা বিপাকে পড়ছেন। গত সোমবার জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা শিশুল বেগম মা ও শিশু কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। কিন্তু ডাক্তার নেই। নার্স দেখে কিছু ওষুধ দিয়েছে, তাই নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। আমরা গরিব মানুষ। চার-পাঁচ শ টাকা ফি দিয়ে ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য নাই।’
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. গোলাম কুদ্দুসকে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তাকে প্রেষণে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি গাইনি চিকিৎসক নন। তাই সিজারিয়ান অপারেশন বা প্রসূতি রোগীর চিকিৎসা দিতে পারেন না। প্রশাসনিক কাজগুলো তিনি দেখভাল করছেন।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডাক্তার গোলাম মো. আযম বলেন, ‘গাইনি ডাক্তারের সংকট রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর ডাক্তার চেয়ে আবেদন করেছি।’ জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এটি পূরণ করা অনেক কঠিন। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
