তালেবানদের পুনরুত্থানের আগে থেকেই বলা হচ্ছিল আফগান বাহিনীতে সদস্য সংখ্যা তিন লাখের বেশি। আর এ সংখ্যার বিপরীতে তালেবান যোদ্ধার সংখ্যা বলা হচ্ছিল ৭০ থেকে ৮০ হাজার। কিন্তু তালেবানরা যখন একের পর এক শহর দখল করতে শুরু করে তখন কার্যত কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলেতে পারেনি আফগান সরকারি যোদ্ধারা। কিন্তু কেন তারা লড়াই না করে ময়দান থেকে পালিয়ে বা আত্মসমর্পণ করেছে, তার কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে সম্প্রতি বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার বিভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা তিন লাখ। এ বাহিনীর ব্যয়ভার বহন করছে তার দেশ। আফগান বাহিনীর সদস্যসংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও একই কথা বলেছেন। কিন্তু বিবিসির এক নিজস্ব অনুসন্ধান বলছে, আফগান বাহিনীর সদস্যসংখ্যা আসলে ৫০ হাজার।
বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, তালেবানের সঙ্গে লড়াইয়ে আফগান সেনাদের হেরে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো তার সদস্যসংখ্যা। আনুষ্ঠানিকভাবে যে সদস্যসংখ্যা বলা হচ্ছিল, তা আসলে প্রকৃত সংখ্যা নয়। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক কম। এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এই বাহিনীকে প্রশিক্ষিত করা এবং তাদের সরঞ্জাম দেওয়ার কথা একাধিকবার বলেছেন। তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বলেছে, আফগান বাহিনীর সদস্যসংখ্যা আসলে ৫০ হাজার বা এর কম। একটি সূত্র বিবিসির নিউজনাইটকে বলেছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন রব্বানি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ খান মোহাম্মদি এক বৈঠকে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। কারণ দেশটির সেনাসংখ্যা আসলে ৫০ হাজার। এছাড়া দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ন্যাটোর হয়ে কাজ করা সাজ্জান গোহেলও বলেছিলেন, আফগান সেনাসংখ্যা ৫০ হাজার।
এ নিয়ে বিবিসির সঙ্গে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিবিসির পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি গোয়েন্দারা জানিয়ে থাকেন, আফগান সেনাসদস্য ৫০ হাজার, তবে সেই তথ্য কি প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়েছিল? হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।
