রাঙ্গুনিয়ায় রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে অর্ধশতাধিক বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনবাগান এলাকায় সরকারি বীজবাগানের মালিকানাধীন এসব পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে স্থানীয় চারটি পাহাড়ের অন্তত ১২টি স্থানে পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব বসতঘরে যেকোনো সময় পাহাড় ধসে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পাহাড় কাটার মাটি পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে রানীরহাট-কাউখালী সড়ক। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রানীরহাট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে কাউখালী সড়কপথে ইসলামপুর ইউনিয়নের পাইনবাগান এলাকা। সড়কের পাশে সুন্দর মনোরম পরিবেশে পাইনবাগান যে কাউকে মুগ্ধ করে। কিন্তু মূল্যবান এই পাইনবাগান নষ্ট করে পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘর। ইতিমধ্যে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে অনেকেই। ঘরের সঙ্গেই লাগোয়া সুউচ্চ পাহাড়। বৃষ্টিতে পাহাড়গুলোর ছোট ছোট অংশ ধসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে। যেকোনো সময় বড় আকারের ধস হয়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ বেলাল জানান, গত কয়েক বছর ধরে রাঙ্গুনিয়া ও কাউখালী উপজেলার কিছু দুষ্কৃতকারী রাতের আঁধারে সরকারি বীজবাগানের মালিকানাধীন এসব পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে আসছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এখন পর্যন্ত ওই স্থানে পাকা, সেমিপাকা, বাঁশ-বেড়ার তৈরি ছোট-বড় অন্তত অর্ধশতাধিক বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এখনো পাইনবাগান এলাকার ৪টি পাহাড়ের অন্তত ১২টি স্পটে পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে। পাহাড় কাটতে গিয়ে সরকারি বীজবাগানের মূল্যবান পাইনবাগান ও অন্যান্য প্রজাতির গাছ কেটে সাবাড় করছে চক্রটি। এছাড়া পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় মাটি পড়ে কাউখালী সড়কটিও বৃষ্টির পানিতে জল-কাদায় একাকার হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে সড়কে।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ জুন ইসলামপুর ও রাজানগর এলাকায় পাহাড় ধসে ২১ জন মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এরচেয়েও বড় ট্র্যাজেডির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরকারি বীজবাগানের রাঙ্গুনিয়ার স্টেশন কর্মকর্তা বিচিত্র কুমার জানান, ‘বীজবাগানের পাইনগাছ ও পাহাড় কাটার বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানায় আমরা একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। এছাড়া পরিবেশ আইনেও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মো. মাহবুব মিল্কী জানান, ‘সরকারি পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের একটি অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফতেখার ইউনুস বলেন, ‘পাহাড় কাটার বিষয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে বসতিগুলোকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছি। পাহাড় উজাড়কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
