ফেনীতে সাপ দিয়ে অপচিকিৎসা, বাক্‌শক্তি হারালেন গৃহবধূ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ০৫:৩৪ পিএম

ফেনীর পরশুরামে সাপ দিয়ে চিকিৎসার নামে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় খালেদা ইসলাম অমি নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী বাক্‌শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ওই নারীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার পর শনিবার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর ননদ হাসিনা আক্তার ও তার স্বামী আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে ফুলগাজী থানা-পুলিশ।

খালেদার মা শাহেন আরা বেগম জানান, আমার মেয়েকে তার স্বামী লিখন আহম্মেদের পরিবার দীর্ঘ দিন যাবৎ যৌতুকের জন্য নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করে আসছিল। গত ৭ আগস্ট রাতে খালেদাকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। খালেদা মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটফট করলেও তাকে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরদিন ৮ আগস্ট বিকেলে পাশের এলাকার একজন সাপুড়ে এনে (ওঝা) পুনরায় সাপ দিয়ে অপচিকিৎসার নামে খালেদাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে।

তিনি জানান, নির্যাতনের ভিডিও ও ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরদিন ৯ আগস্ট খালেদাকে শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে গুরুতর আহত খালেদাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে ৮দিন চিকিৎসা নেয়ার পর গত ১৬ আগস্ট খালেদাকে আমার ফুলগাজীর বাড়িতে নিয়ে আসি।

গৃহবধূর মা শাহেন আরা বেগম আরও জানান, সাপে কাটার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পাওয়ায় আমার মেয়ে খালেদা বোবা হয়ে গেছে। এখন আমার মেয়ে কোন কথা বলতে পারছে না। এদিকে খালেদাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর খবর পেয়ে তার স্বামী লিখনের মাসহ (খালেদার শাশুড়ি) আরও লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আমরা বাধা দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আমাদের বাড়ি-ঘরে হামলা করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পরশুরাম উপজেলার সাতকুচিয়া গ্রামের চৌধুরী বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে প্রবাসী লিখন আহমেদের সাথে ৫ বছর আগে ফুলগাজীর মুন্সিরহাটের পূর্ব দরবারপুর গ্রামের খালেদা ইসলাম অমির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য লিখনের মা খাইরুন নেছা, দেবর মো. রাসেল, বোন নুর নাহার, হাছিনা ও সামছুন নাহার, বোনের স্বামী আবুল কাশেম, ভাগিনা মোহাম্মদ হোসেন মিলে গৃহবধূ খালেদাকে নানাভাবে নির্যাতন করত।

খবর পেয়ে শুক্রবার ফুলগাজীতে খালেদার পরিবারের সাথে স্ব যোগাযোগ করেন ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী। তিনি খালেদার পরিবারকে মামলা করার নির্দেশ দিলে গত শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএনএম নুরুজ্জামান জানান, গৃহবধূ নির্যাতন ও হামলার ঘটনায় মামলার পর পুলিশ চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকা থেকে আসামি হাসিনা আক্তার ও আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত