জিম্বাবুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসছে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও নেই তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ওপেনার হাঁটুর চোট থেকে সেরা উঠতে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। দীর্ঘ দিন এই ফরম্যাটে নেই তামিম। তাই সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে হতে যাওয়া আসরে তামিমকে পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়ে শঙ্কা। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আশাবাদী এই বাঁহাতিকে নিয়ে।
তামিম যেভাবে সেরে উঠছেন সেটাই আশাবাদী করছে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীকে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘তামিম বেশ ভালোভাবেই সেরে উঠছেন। চোটের জন্য তার বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন ছিল। আমরা সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করেছি এবং সে খুব ভালোভাবেই সাড়া দিচ্ছে।’
‘পরের সপ্তাহ থেকে তামিম স্কিল ট্রেনিং শুরু করবে। প্রথমে হালকা নকিং, এরপর নেট সেশনে যাবে। এখন পর্যন্ত তামিম প্রায় পাঁচ সপ্তাহ শেষ করেছেন। কোনো প্রকার সমস্যা ছাড়াই জিম সেশন সম্পন্ন করেছেন। আমরা তার উন্নতি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। যখন সে রানিং এবং প্র্যাকটিস শুরু করবে তখন আমরা তার সেরা ওঠার বিষয়ে পরিষ্কার হতে পারব। তবে যেভাবে সে উন্নতি করছে, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে বিশ্বকাপে তাকে পাওয়া যাবে।’- বলেন দেবাশীষ চৌধুরী।
তামিম ডান হাঁটুর চোটে ভুগছেন এপ্রিল-মে মাসে হওয়া বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর থেকে। এরপর অবশ্য ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ও বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তামিম। তবে জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ মিস করেন। ওয়ানডে অধিনায়ক হওয়ায় চোট নিয়েই খেলেছিলেন ওয়ানডে সিরিজে।
এরপর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও তামিমকে ছাড়াই খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও থাকছেন না।
তামিম সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২০ সালের মার্চে। নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে মোট চারটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ মিস করতে যাচ্ছেন তিনি।
তবে এরপরও বিশ্বকাপে তামিমকে পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শোনাচ্ছে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সন্দেহ দেখছি না। তামিম দেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন এবং এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তিনি যখন ফিট হবেন তখনই খেলবেন এবং দলের সাথে থাকবেন। আমরা তার সেরে ওঠার দিকে নজর রাখছি।’
তামিম চোট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান সার্জন ডেভিড ইয়াংয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। যিনি দীর্ঘ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিলেন তামিমকে। সেটি মেনেই চলছেন এই ড্যাশিং ওপেনার।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে মাঠে ফিরতে চেয়েছিলেন তামিম। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটি পিছিয়ে গেছে ২০২৩ সাল পর্যন্ত।
যত দূর জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল ঘোষণা হতে পারে নিউজিল্যান্ডে সিরিজের সময়ই। এই সময়ের মধ্যে তামিমের সেরা ওঠা বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া যাবে বলে আশা বিসিবির।
