নারী ক্রিকেটারদের দিয়ে অলিম্পিক পদক জয়ের স্বপ্ন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ১১:৩৩ পিএম

একুশে বইমেলাকে কেন্দ্র করে কিছু খেলাধুলা বিষয়ক বই প্রকাশিত হয়। তবে শুধুই নারী ক্রিকেট কেন্দ্রিক বই কখনো ছাপা হয়নি। এই বিবেচনায় সাবেক ক্রিকেটার ও সংগঠক মনোয়ার আনিস খান মিনুর নারী ক্রিকেটারদের পথচলা নিয়ে বই ‘মেয়েরাও পারে’ একটি ব্যতিক্রমী প্রকাশনা। এক অর্থে বৈপ্লবিকও বটে।

ঢাকা ক্লাবে গতকাল মনোয়ার আনিস খান মিনুর ‘মেয়েরাও পারে’ বইটির মোড়ক উন্মোচিত হলো। সেই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক ক্রিকেটার ও সংগঠক সৈয়দ আশরাফুল হক, রকিবুল হাসান, শাকিল কাসেম, ওমর খালিদ রুমি, রাফিয়া আক্তার ডলি, নারী ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক আইভী, নারী ক্রিকেটর দলের সাবেক হেড কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজাসহ অনেকেই।

মনোয়ার আনিস খান বইয়ে তুলে এনেছেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের বিবর্তনের ইতিহাস। বিসিবির নারী উইংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান বইটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখেন, ‘আমাদের মেয়েরা অনেক দিন থেকে ক্রিকেট খেলছে। কিন্তু তাদের সব কার্যক্রম কোথাও লেখা নেই। আমরাও হারিয়ে গেছি। আবার আমাদের প্রজন্মও হারিয়ে যাওয়ার পথে। সালমারা যেসব অর্জন করেছে, এগুলোর রেকর্ড রাখা দরকার। সবকিছুর পেছনেই ইতিহাস থাকে। সেই ইতিহাসকেও সামনে এনেছে এই বই । কখন কোথা থেকে বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেটের শুরু, নতুন প্রজন্মের সবাই জানতে পারবে এই বইয়ের মাধ্যমে। ভবিষ্যতে নারী ক্রিকেটের অবদান রাখতে এই বই ভূমিকা রাখবে। এই বইয়ের মধ্যে থেকে মেয়েরা অনুপ্রেরণা পাবে।’

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান কথা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নারীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, ‘১৯৮৩ সালে আমরা পশ্চিমবাংলা সফর গিয়েছিলাম। তখন উইন্ডিজ-ভারত টেস্ট চলছিল ইডেনে। আমাদের স্বপ্ন ছিল ইডেনে খেলা। ইডেনে গিয়ে আমরা জেনে গর্বিত হই যে, আমাদের আগে নারীরা ইডেনে খেলেছেন।’ বইটির ইংরেজি সংস্করণ করে সেটা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন রকিবুল হাসান। ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হকও প্রশংসা করেছেন মিনুর উদ্যোগকে, ‘নিঃসন্দেহে এটি দারুণ উদ্যোগ। এই বইটি ইংরেজিতে অনূদিত হলে সারা বিশ্ব বাংলাদেশের নারীদের ক্রিকেট সম্পর্কে জানতে পারবে।’ ‘মেয়েরাও পারে’ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা বলেন, ‘বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এ রকম যে কোনো উদ্যোগের সঙ্গে থাকবে। যে কোনো সহায়তা আমরা পাশে থাকব।’

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের সাফল্য সম্পর্কে  সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মেয়েদের ক্রিকেটে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। এ জন্য অনেক পরিকল্পনা করতে হবে। ই-কমার্স, বীমা, ব্যাংক এদের পৃষ্ঠপোষকতায় আনতে হবে। এনবিআরের কাছ থেকে চিঠি আনতে হবে যাতে স্পনসরদের ট্যাক্স মওকুফ করা যায়। বিসিবিতে বর্তমানে কয়েকশ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট আছে। বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা না পেলে এটা সম্ভব হতো না। টেস্ট মর্যাদা না পেলে আমাদের সরকারের ওপর নির্ভর করতে হতো। একইভাবে নারী ক্রিকেটেও স্বপ্ন দেখি অলিম্পিকে পদক জেতার। কারণ, এই মেয়েদের সম্ভাবনা আছে ভালো কিছু করার।’

‘মেয়েরাও পারে’ বইটির সম্পাদনা করেন সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক শামীম চৌধুরী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত