গত এক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে পদ্মার পানি। এতে ফরিদপুরের নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে।
ফরিদপুর পাউবো জানিয়েছে, পদ্মায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এতে জেলা সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামে ফসলি ক্ষেত, রাস্তা, নিচু এলাকার বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। ওই সকল জায়গায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, তার ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। শহরে যাওয়ার তিনটি রাস্তা তলিয়ে গেছে। কয়েক হাজার একর আউশ ধান ক্ষেত পানি নিমজ্জিত।
প্রায় একই অবস্থা এই উপজেলার ডিক্রীরচর, চরমাধবদিয়া ও অম্বিকাপুর ইউনিয়নের।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুম রেজা বলেন, পানিবন্দী এক হাজার মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গবাদিপশুর খাদ্য মজুত আছে।
এদিকে চরভদ্রাসন উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মোতালেব হোসেন জানান, উপজেলার চরঝাইকান্দা, হরিরামপুর, চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের ২০ হাজার পরিবার এখন পানিবন্দী।
তিনি বলেন, সরকারি খাদ্য সহায়তা পেয়েছি, ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তা বিতরণ করা হচ্ছে।
সদরপুরের তিনটি ইউনিয়ন দিয়ারা নারকেল বাড়িয়া, চরনাছিরপুর ও চরমাইরের ২৫টি গ্রামে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান জানান, পানিবন্দী মানুষের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা পাইনি।
ফরিদপুরে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার পানিবন্দী মানুষদের বিষয়ে বলেন, জেলা নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষের খবর রাখছি। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের সরকারিভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। জেলার সকল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ সরকারি খাদ্য সহায়তার আওতায় আসবে।
