ভাঙ্গায় এবার প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

জেল খেটে এসে আবারও ডাক্তার সেজে অপারেশন

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২১, ১১:৪৯ পিএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকের হাতে এবার প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাক্তার না হয়েও অস্ত্রোপচার করার পর প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। মাত্র বছরখানেক আগে একই ধরনের অভিযোগে ওই হাসপাতাল মালিককে ছয় মাসের কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আলোচিত ওই হাসপাতালের নাম ‘পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। মামুনুর রশীদ (৩৬) নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি ভাঙ্গা পৌর সদরে উপজেলা হাসপাতালের পাশে সেটি চালু করেছেন। মাত্র এক বছর আগে এই মামুনুর রশীদকে ডাক্তার সেজে অপারেশন করার অপরাধে ছয় মাসের জেলদন্ড দেয় মোবাইল কোর্ট। তিনি জেল খেটে বেরিয়ে এসে নতুন করে এ হাসপাতালটি চালু করেন।

পদ্মা হাসপাতালের সরবরাহকৃত তথ্যে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামের মোফাজ্জেল দফাদারের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা তাসলিমা বেগম (২০) ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের দায়িত্বে ভর্তি হন। এর কিছুক্ষণ পরেই তাসলিমাকে অপারেশনের জন্য ওটিতে নেওয়া হয়। পরে অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় তার। এরপর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করার পর রাত ৩টার দিকে তাসলিমা মারা যান।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কোনো চিকিৎসক নন, বরং ওই প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক নিজেই ওই অপারেশন করার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গতকাল বুধবার হাসপাতালের নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, তাসলিমার সিজার অপারেশনকারী সার্জন হিসেবে ডা. ইয়াসমিন আকতারের নাম রয়েছে। বিষয়টি জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাসলিমা নামে ওই প্রসূতিকে অপারেশনের তথ্য সঠিক নয় জানিয়ে বলেন, ‘সেদিন আমি ফরিদপুরের শিশু হাসপাতালে কর্মস্থলে ছিলাম। ওই অপারেশন আমি করিনি।’

ঘটনার ব্যাপারে জানতে মামুনুর রশীদের মোবাইলে বারবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহসিনউদ্দিন ফকির বলেন, পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এমন একটি ঘটনা শুনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি এখনো। প্রাইভেট ওই হাসপাতালটি অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত