শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আগের রাতে নিখোঁজ এক যুবকের লাশ পরদিন ভোরে স্থানীয় বাজারে বোমা ও গুলিবিদ্ধ ক্ষত-বিক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের আন্দারমানিক বাজারের পাকা সড়ক থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আলমগীর মীরবহর (৩৬) উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মালতকান্দি গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিন মীরবহরের ছেলে। তিনি একজন কৃষক ছিলেন।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আলমগীর মীরবহর রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় মহিষখোলা বাজারে যান। রাত নয়টার দিকে আলমগীরের সঙ্গে তার বড় ভাই জাহাঙ্গীরের দেখা হয়। জাহাঙ্গীর তাকে বাড়িতে যাওয়ার জন্য বললে তিনি একটু পরে আসবেন বলে জানান। এর কিছুক্ষণ পরই আলমগীর নিখোঁজ হন।
রাতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন খোঁজ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ভোর ৫টার দিকে রাজনগর ইউনিয়নের আন্দারমানিক বাজারের পাকা সড়ক থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত আলমগীরের বোন সুফরিন বেগম বলেন, আমার ভাইকে রাতে পরিকল্পিতভাবে নিয়ে বোমা মেরে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দেয়া হোক।
রাজনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দাদন মীরবহর বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেন ও সাবেক চেয়ারম্যান আলীউজ্জামাল মীর মালতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এই বিরোধের জের ধরে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনা ঘটে। আজ যার লাশ পাওয়া গেছে তিনি চেয়ারম্যান গাজী জাকির হোসেনের সমর্থক ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নড়িয়া সার্কেল এসএম মিজানুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। ওই যুবককে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বোমা মেরে ও গুলি করে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি শটগানের গুলির খোসা, একটি তাজা গুলি, ২২ বোর পিস্তলের গুলির খোসা একটি, দুটি তাজা বোমাসহ বিস্ফোরিত বোমার অংশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের পাঠিয়েছি। হত্যার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
