বাংলাদেশি মাত্র ২২ টাকা মূল্যের ওমানি মুদ্রা প্রতারণার মাধ্যমে ১০ হাজার টাকায় বিক্রির করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে টাকা উত্তোলনকারীদের টার্গেট করে চক্রের সদস্যরা। সহজ-সরল ব্যক্তির কাছ থেকে কৌশলে বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
গত দুই বছরে চক্রটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ চক্রের প্রধান মো. আল আমিন (৩৫) ও তার সহযোগী মো. শাহজাহান সিরাজকে (৪৬) গ্রেপ্তারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রবিবার দুপুরে পিবিআই সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
তিনি বলেন, গত শনিবার রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় প্রতারণায় ব্যবহৃত ওমানি মুদ্রা, বাংলাদেশি টাকা ও সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রটি প্রতি মাসে গড়ে এক কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। এই চক্রের আরো পাঁচ সদস্যের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, গত ২৩ আগস্ট সকালে ভুক্তভোগী মো. লুৎফর রহমান (৪৯) বাসা থেকে বের হয়ে তার বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ভাইয়ের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন। ফেরার পথে কদমতলী চৌরাস্তার পূর্ব পাশে জাহিদ মার্কেটের সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজির ড্রাইভার তাকে স্যার বলে সম্বোধন করে। সিএনজির কাছে গেলে ড্রাইভার কয়েকটি বিদেশি মুদ্রার নোট দেখিয়ে সেগুলো কোথায় এক্সচেঞ্জ করা যাবে জানতে চায়। তখন লুৎফর রহমান ওই ড্রাইভারকে বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাঙানো যায়। তখন ওই ড্রাইভার তাকে ২০ থেকে ২৫টি বিদেশি কারেন্সী দেখায় এবং ভাঙানো হলে কত টাকা পাওয়া যাবে জানতে চায়। ঠিক সেই মুহূর্তে সিএনজি অটোরিকশাটির কাছে চক্রের আরো দু সদস্য আসে এবং লুৎফর রহমানের পাশে দাঁড়ায়। তাদের একজন ব্যাংকে চাকুরি করে এবং অপরজন মানি এক্সচেঞ্জে চাকরি করে বলে জানায়। বিদেশি টাকাগুলো অনেক দামি এবং ওমানি কারেন্সি উল্লেখ করে ওই দুই ব্যক্তি বলেন, মানি এক্সচেঞ্জের দোকানে ভাঙালে অনেক টাকা পাওয়া যাবে। তাদের একজন তখন লুৎফর রহমানকে দেখিয়ে ৪০ চল্লিশ হাজার টাকা দিয়ে সিএনজি ড্রাইভারের কাছ থেকে ৪টি নোট কিনে নেয় এবং লুৎফর রহমানকে ওই নোট কেনার জন্য প্রলুব্ধ করে। সিএনজি ড্রাইভারের কাছে আরো ২০/২২টি নোট রয়েছে বলে জানায় এবং নোটগুলোর বর্তমান বাজারমুল্য প্রতিটি ২২ হাজার টাকা বলে জানালে, তাদের কথায় বিশ্বাস করে লুৎফর রহমান সিএনজি ড্রাইভারকে নগদ দুই লাখ টাকা দিয়ে ২০ ওমানি কারেন্সি নোট নেন। তখন সিএনজি ড্রাইভারসহ ওই দুজন সিএনজিতে উঠে দ্রুত বাবু বাজারের দিকে চলে যায়। পরে লুৎফর রহমান বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়ে দুই লাখ টাকা হারিয়েছে।
এ ঘটনার পর লুৎফর রহমান গত ২৭ এপ্রিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে মামলা করেন।
পিবিআই এসপি বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের আরো সহযোগিকে নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে অভিনব কায়দায় এভাবে প্রতারণা করে আসছে। তাদের স্বীকারোক্তিতে আসামি আল আমিনের কাছ থেকে ১০০ ভায়েসার ৪০টি ওমানি মুদ্রা ও নগদ ১০০০০ (দশ হাজার) টাকা এবং আসামি শাহজাহান সিরাজের কাছ থেকে ১০০ ভায়েসার ১৮টি ওমানি মুদ্রা ও নগদ দশ হাজার টাকা এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি বলেন, আল আমিন এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দলনেতা। তারা দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘবদ্ধ ভাবে অভিনব সব কায়দায় বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারীদেরকে পর্যবেক্ষনে রাখে। তাদের পিছু নিয়ে এবং সুকৌশলে তাদের শিকারকে বিভিন্ন দেশের কারেন্সি নোট দেখিয়ে বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষকে খুব সহজেই শিকারে পরিণত করে তার কাছ থেকে সমস্ত টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
