দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪ নম্বর ফেরিঘাট

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২১, ০২:২৬ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে পদ্মার নদী তীরবর্তী ১০০মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ৩০জুলাই সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার থেকে দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের ফলে ৪ নম্বর ফেরিঘাটের নদীপাড়ের একমাত্র মসজিদ সহ চারটি বাড়ির বেশির ভাগ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়।

ভাঙনের খবর পেয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম সহ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভাঙন  কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার ভোরে নদী তীরবর্তী সিদ্দিক কাজীর পাড়া জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন মসজিদের মুসল্লিরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পদ্মার তাণ্ডব শুরু হয়। এতে করে মসজিদের  সহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক কাজী, হান্নান কাজী, মান্নান কাজী ও বাচ্চু শেখের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যায়।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সকালে হঠাৎ করে পদ্মার ভাঙন শুরু হয়। মনে হচ্ছে পদ্মা নদীর পাড়ে মসজিদের নিচের থেকে মাটি সরে যাওয়ার কারণে এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনে নদীপারের বিভিন্ন স্থাপনা সহ ফেরিঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল ভাঙন পরিস্থিতি দেখতে এসে ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা দেখে নিজেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি নিজে, আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান, এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত কয়েক দিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে এখানে ভাঙনের বিষয়ে আশঙ্কার কথা বলে আসছিলাম। কিন্তু তারা যথা সময়ে ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ভাঙন শুরু হওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হলেও তাতে খুব একটা কাজ হচ্ছে না। বরং এতে সরকারের ব্যয় বেশি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরের অব্যাহত ভাঙনে দৌলতদিয়ার ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ড নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। হাজার মানুষ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী দৌলতদিয়া ঘাটকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএর) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, দৌলতদিয়ার ৪নং ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে নদীপারের মসজিদ সহ বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে আমাদের ফেরিঘাট। যেহেতু এই এলাকার ভাঙন রোধে আমাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করার করা। সেই দিক বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত