অষ্টম শ্রেণি : শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২১, ১০:৪৯ পিএম

তৃতীয় অধ্যায়

স্বাস্থ্যবিজ্ঞান পরিচিতি ও স্বাস্থ্যসেবা

সাধারণ প্রশ্ন

১. সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি কীভাবে এইডস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সমাজ হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কের জাল। মানুষ সামাজিক জীব। সামাজিক সম্পর্ক সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সামাজিক সচেতনতাই এইডস প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

এইডস প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার ভূমিকা : সামাজিক আন্দোলন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এইডস কী, কীভাবে এ রোগ সংক্রমিত হয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী প্রভৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ও সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন। যার কোনো প্রতিষেধক নেই তাকে প্রতিরোধ করাই একমাত্র উপায়। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতাই পারে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। এইডসের সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনা সৃষ্টি করতে পারলেই ঘাতক এইডস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। মসজিদে ও মন্দিরে নামাজ এবং পূজার সময় এইডসের ভয়াবহতা সম্পর্কে ইমাম সাহেব ও পুরোহিত বক্তব্য রাখলে খুব সহজেই সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি হবে। এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এইডস বিষয়ে সচেতন হতে হলে নিচের বিষয়গুলো জানা থাকা দরকার-

ক. এইচআইভি/এইডস কী

খ. এইচআইভি কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে ছড়ায় না

গ. এইচআইভি/এইডসের লক্ষণসমূহ

ঘ. এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকিপূূর্ণ আচরণ

ঙ. এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধের উপায়সমূহ

চ. এইডস আক্রান্তদের চিকিৎসা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা

২. এইডস আক্রান্ত রোগীর সমস্যা মানে পরিবারেরই সমস্যা- মতামত দাও।

উত্তর

এইডসের প্রভাব মানব জীবনের সব ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনে। স্বাস্থ্যসেবায় যেমন এইডসের ক্ষতিকর দিক রয়েছে, তেমনি পারিবারিক ক্ষেত্রেও এর ক্ষতিকার প্রভাব রয়েছে।

এইডস আক্রান্ত রোগীর সমস্যা শুধুমাত্র রোগীর একক সমস্যা নয়, পরিবারেরও সমস্যা বটে। ব্যক্তি পরিবারের অধীন। পরিবারের কোনো ব্যক্তি এইডস রোগে আক্রান্ত হলে তার পরিবারের ওপর প্রভাব পড়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তাকে স্থানীয় লোকজন, পাড়া-প্রতিবেশী এড়িয়ে চলে। তাকে এবং তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় হতে হয়। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি কোথাও কর্মরত থাকলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে পরিবারে অর্থ সংকট দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে পতিত হয় এবং এক পর্যায়ে এসে মারা যায়। এতে তার ছেলেমেয়েরা অবহেলা অনাদরে বড় হতে থাকে। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এমনকি অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

ওপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, এইডস আক্রান্ত রোগীর সমস্যা মানে পরিবারের সমস্যা এবং পরিবারের ওপর নেমে আসে বিপর্যয়।

৩. কীভাবে এইডস ছড়ায় তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

এইডস যেভাবে ছড়ায় : এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের কয়েকটি তরল পদার্থে যেমনÑ রক্ত, বীর্য ও মায়ের বুকের দুধে বেশি থাকে। ফলে মানবদেহের এই তরল পদার্থগুলোর আদান-প্রদানের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। এইচআইভি সুনির্দিষ্টভাবে যে সব উপায়ে ছড়ায়, সেগুলো হলো-

ক. এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রোগীর রক্ত কোনো ব্যক্তির দেহে পরিসঞ্চালন করলে

খ. আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুচ বা সিরিঞ্জ অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে ব্যবহার করলে

গ. আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো অঙ্গ বা দেহকোষ অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করলে

ঘ. আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে (গর্ভধারণকালে, প্রসবকালে বা মায়ের দুধ পানকালে) তার শিশু এই রোগে সংক্রমিত হতে পারে

ঙ. অনৈতিক ও অনিরাপদ দৈহিক মিলন করলে

চ. অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড বা রেজার ব্যবহার করলে

পরিশেষে আমরা বলতে পারি এইচআইভি/এইডস কী, কীভাবে সংক্রমিত হয়, লক্ষণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী প্রভৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ও সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত