করোনা মহামারীর কারণে আরোপ করা চলাচল ও অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ায় এখন কমে গেছে স্বাস্থ্য সচেতনতা। গণপরিবহন, শপিং মল, দোকান, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, বিনোদন কেন্দ্র ও টিকাদান কেন্দ্রসহ কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাস্ক পরার আগ্রহও দেখা যায় না। প্রায় সব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। ঢাকার বাইরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
ময়মনসিংহ : কঠোর বিধিনিষেধ তথা ‘লকডাউন’ তুলে সবকিছু খুলে দেওয়ায় এখন স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে পড়েছে। ব্যক্তিগত দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, ময়মনসিংহে এখন মাস্ক ব্যবহারেও সবার অনীহা দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের মতোই সবাই এখন বেচাকেনায় ব্যস্ত।
নগরীর গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় হারুনুর রশিদ নামে এক পথচারী বলেন, এখন তো লকডাউন উঠে গেছে তাই মাস্ক পরি না। নগরীর মেছুয়া বাজার, নতুন বাজার, সানকিপাড়া বাজার, চরপাড়া কাঁচাবাজারে মানুষের ভিড় দেখে মনে হয় না করোনাভাইরাস বলে কিছু আছে।
ময়মনসিংহের মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড ও পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। আগের মতো শতভাগ যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করলেও যাত্রীদের অধিকাংশের মুখে মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। রেলওয়ে স্টেশনেও দেখা যায় একই চিত্র।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক জানান, কঠোর বিধিনিষেধ উঠে গেলেও মহানগরীর অলিগলি এবং বাজারগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শিবচর (মাদারীপুর) : সবকিছু খুলে দেওয়ার পর থেকে দেশের প্রথম ‘লকডাউন’ উপজেলা মাদারীপুরের শিবচরে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদাসীনতা দেখা গেছে। উপজেলার হাট-বাজার, গণপরিবহন, রাস্তাঘাট, নৌরুট, বিভিন্ন অফিসে আগের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যাচ্ছে না সাধারণ মানুষকে। এদিকে টিকা কেন্দ্রেও নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে টিকা নিচ্ছে মানুষ। ইদানীং মাস্ক পরতেও অনীহা দেখা যাচ্ছে। গণপরিবহন, ইজিবাইক, থ্রিহুইলারেও গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। স্যানিটাইজার ব্যবহারও কমেছে।
কক্সবাজার : পর্যটন খুলে দেওয়ায় গত শুক্রবার ছুটির দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ছিল লোকে লোকারণ্য। কিছু পর্যটক মাস্ক পরলেও অনেকেই জুতার ভেতর মাস্ক রেখে গোসল করতে নেমে পড়ে সৈকতে। রিতা সরকার নামে এক পর্যটক বলেন, প্রশাসনের ভয়ে ১০ টাকায় মাস্ক কিনে এনেছি। কিন্তু সৈকতে কেউ মাস্ক ব্যবহার না করায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তা ব্যবহার করিনি।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম বলেন, ‘সরকারের দেওয়া সব শর্ত মানা হচ্ছে। সৈকতে পর্যটকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছে কি না সেই দায়িত্ব আমাদের নয়।’
কুমিল্লা : করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কুমিল্লার জনসাধারণ। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’Ñ নীতিও মানা হচ্ছে না। বাইরে বের হওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়, নিউ মার্কেট এলাকা, চকবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, মাস্ক ছাড়াই অনেকে ঘোরাফেরা করছে। শাসনগাছা, চকবাজার ও নোয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া গণপরিবহনের যাত্রীরাও স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই যাতায়াত করছেন। মাস্ক সঙ্গে থাকলেও পকেটে বা হাতে রেখেই চলাচল করছেন অনেকে। কুমিল্লা নগরীর ফুটপাতগুলোতে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের মুখেও মাস্ক দেখা যায়নি।
