একাধিক ধর্ষণের প্রতিবাদে নগ্ন হয়ে ঘোরা এক নারীর করুণ কাহিনি

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৫ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ১০ বছর পর ফিরে পেয়েছে তার পরিবার। ওই নারী (৪০) নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দুই ছেলের। তার রিকশাচালক স্বামী অন্য এক নারীকে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন।

তাকে উদ্ধার করা সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর তিনি নগ্ন হয়ে চলাফেরা করতেন।

ওই নারীর বড় ছেলে জানান, পারিবারিক কলহের জেরে দশ বছর আগে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তখন তার মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ভবঘুরে হয়ে যান। দশ বছর ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান পাননি মায়ের। ৪ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মায়ের ছবি দেখে তার খালা শনাক্ত করেন।

সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনের সহযোগিতায় চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে সহকারী ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে ওই নারীকে তার ছেলের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিখন বনিক, চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন, সাংবাদিক জাবেদ হোসাইন মামুন, পৌর কাউন্সিলর আইয়ূব আলী খান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়’র সভাপতি মঞ্জিলা মিমি, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস তালুকদার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন রিপন উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন জানায়, মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী দীর্ঘ দিন যাবৎ সোনাগাজী পৌর এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে থাকতেন। তার বিবস্ত্র চলাফেরায় নারী-পুরুষরা চরম বিব্রতবোধ করত। কেউ কেউ মাঝে-মধ্যে তাকে বস্ত্র পরিধান করিয়ে দিলেও কিছু সময় পর তা খুলে বিবস্ত্র অবস্থায় চলা ফেরা করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কেউ কেউ স্ট্যাটাস দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে। কিন্তু তখন পর্যন্ত ওই নারীর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

গত ৩ সেপ্টেম্বর পৌরসভার মেয়র খোকন ওই নারীর চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উৎপল দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যথাযথ চিকিৎসা পেলে ওই নারী সুস্থ হবেন। পরে ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়’র মাধ্যমে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার যথাযথ চিকিৎসার জন্য সহায়কে আর্থিক অনুদানও প্রদান করেন পৌরসভার মেয়র।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি শনাক্ত করে তার বড় ছেলে হোমনা থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় নিশ্চিত হয়ে হোমনা থানার ওসি আবুল কায়েস আকন্দ ওই নারীর ছেলেকে সোনাগাজী পাঠান। তার ছেলে মায়ের ভরণপোষণ বহন করবে মর্মে এসিল্যান্ডের কাছে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে মাকে বুঝে নেন। এ সময় মেয়র খোকন আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

সহায়’র সভাপতি মঞ্জিলা মিমি বলেন, কিছুটা সুস্থ হলে ওই নারী তাকে জানিয়েছেন, ভবঘুরে থাকা অবস্থায় একাধিক লোক রাতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। এ জন্য জেদ করে বিবস্ত্র অবস্থায় ঘুরতেন। ইমোতে বোন ও মায়ের ছবি দেখে আবেগে আপ্লুত হয় ওঠেন তিনি। তার ১৬ বছর বয়সী বড় ছেলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ছেলে গ্রামের বাড়িতে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাকে তাড়িয়ে রিকশাচালক স্বামী অন্য এক নারীকে বিয়ে করে সংসার গড়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত