খাদ্য অপচয় গোনাহের কাজ

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৬ পিএম

‘প্রতিবছর পৃথিবীতে ১৩০ কোটি টন খাদ্য নষ্ট হয়। নষ্ট হওয়া খাবার সম্পূর্ণ পৃথিবীর মোট খাদ্য জোগানের এক-তৃতীয়াংশ।’ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিবছরই এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ফি বছর প্রকাশিত প্রতিবেদনে নষ্ট খাবারের পরিমাণে কমবেশি হলেও খাবার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত। অথচ খাবার নষ্ট করা যেমন অমানবিক তেমনি গোনাহের কাজ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘(তোমরা) খাও, পান করো ও অপচয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ সুরা আরাফ : ৩১

বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় অপরিকল্পিত খাবার ব্যবস্থাপনার দরুন প্রচুর খাবার অপচয় হয়। বিয়ে, জন্মদিন, পারিবারিক উৎসবে প্রয়োজনের অধিক খাবার রান্না করা হয়। যার ফলে প্লেটে বেশি খাবার দেওয়া হয়, অনেক সময় জোর করে দেওয়া খাবার প্লেটে বাকি থেকে যায়। যা পরে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়। হোটেল-রেস্তোরাঁর বুফেতে চলে খাবার অপচয়ের মহোৎসব। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘বিশ্বজুড়ে বছরে মোট খাবারের ১৭ শতাংশ রেঁস্তোরা ও দোকানে অপচয় হয়।’ অথচ আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ সুরা ইসরাইল : ২৭

অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে, এক শ্রেণির মানুষের অসচেতনতা, অভ্যাস, বিলাসিতা, আভিজাত্য প্রকাশ, প্রদর্শনেচ্ছা ও পরিবহন অব্যবস্থাপনা কারণে প্রচুর খাদ্য অপচয় হয়। খাদ্য অপচয় ইসলামে নিষিদ্ধ। ইসলাম খাবার গ্রহণের বিষয়ে চমৎকার নীতিমালা দিয়েছে। ইসলামের শিক্ষা হলো পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার খাওয়া, এক-তৃতীয়াংশ পানি এবং বাকি অংশ খালি রাখা। পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন। হাদিসে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন আহার করতেন, আহার শেষে তিনবার আঙুল চেটে খেতেন এবং বলতেন, তোমাদের খানার বাসন থেকে কিছু পড়ে গেলে উঠিয়ে পরিষ্কার করে খেয়ে নাও, তা শয়তানের জন্য ছেড়ে দিয়ো না।’ আবু দাউদ : ৩৮৪৫

ভোজনবিলাসী, ভোজনপ্রেমী শব্দগুলো নিজের নামের সঙ্গে লাগিয়ে সুখ অনুভব করেন বহু মানুষ। এমন বিলাসী মনোভাব ও অহংকার অমানবিক কাজ, এগুলো ইসলামি চিন্তার বিরোধী। ইসলাম সর্বদা সমাজের দরিদ্র মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা ভাবার কথা বলে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের সাহায্যের কথা বলে। নিজের পাড়া-প্রতিবেশী, অভাবী আত্মীয়-স্বজনদের সাহায্য করতে বলে। মানবতার ধর্ম ইসলাম অতিভোজন ও অপচয় থেকে যেমন মানুষকে বিরত থাকার কথা বলে, তেমনি কৃপণতা করতে নিরুৎসাহিত করে। মধ্যমপন্থা অবলম্বন ইসলামের সুমহান শিক্ষা ও সৌন্দর্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না। বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।’ সুরা ফুরকান : ৬৭

ইসলামি স্কলাররা বলেন, অপচয়রোধের জন্য নিজের আয়ের টাকা দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন না করে সুশৃঙ্খল ও সুপরিকল্পিতভাবে ব্যয় এবং অল্পে তুষ্টি হওয়ার মানসিকতা পোষণ করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। আয়-রোজগারের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া। হালাল উপার্জনের জন্য প্রাণান্তকর লড়াইয়ে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। আয়ের টাকা পরিবারের খরচ নির্বাহ করে, অতিরিক্ত টাকা থেকে আল্লাহর রাস্তায় দান করার অভ্যাস তৈরি করা। পরকালে জবাবদিহিতার মন-মানসিকতা নিয়ে ব্যয় করা। যাবতীয় বদঅভ্যাস পরিহার করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত